বৃহস্পতিবার, ১৭ Jun ২০২১, ১১:১৬ অপরাহ্ন

ইয়াসের প্রভাবে কক্সবাজারে আড়াই হাজার ঘর বিধ্বস্ত, ভেঙ্গে গেছে ১৪ বেড়িবাঁধ

ইয়াসের প্রভাবে কক্সবাজারে আড়াই হাজার ঘর বিধ্বস্ত, ভেঙ্গে গেছে ১৪ বেড়িবাঁধ

নিউজ ডেস্ক : ভরা পূর্ণিমা ও ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানির তোড়ে বেড়িবাঁধ ও তীর ভেঙ্গে কক্সবাজার জেলার প্রায় শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে জেলায় প্রাথমিক ভাবে ২ হাজার ৫শ’ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশিদ।

 

জেলা প্রশাসক বলেন, প্রাথমিকভাবে জেলা প্রশাসন ২ হাজার ৫শ’ ৭০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পেয়েছে। তবে এটি চুড়ান্ত তালিকা নয়। এ তালিকা যাচাই বাচাই শেষে বাড়তেও পারে আবার কমতেও পারে। এরমধ্যে প্রাথমিক তথ্যের ভিক্তিতে ক্ষতিগ্রস্তদের একটি তালিকা তথ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ডিসি।

 

জেলা প্রশাসন সূত্র মতে, কক্সবাজারের মহেশখালীর ধলঘাটা, মাতারবাড়ি, কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইল, টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিন এবং কক্সবাজার সদরের পোকখালীর গোমাতলীর বেড়িবাঁধ ভেঙে শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তবে সবচেয় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলায়।

জেলা প্রশাসন সূত্র আরো জানায়, ঘূর্ণিঝড় থেকে বাঁচতে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ১১ হাজার ৬শ মানুষ আশ্রয় শিবিরে অবস্থান নিয়েছেন। তাদেরকে জেলা প্রশাসনের উদ্যােগে পর্যাপ্ত খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবারাহ করা হয়। এ ছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের জন্য প্রয়োজন মোতাবেক খাবার সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।

 

এদিকে, মহেশখালীর মাতারবাড়ি, ধলঘাট ও সদরের পোকখালী, চৌফদন্ডীর ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ গুলো দ্রুত মেরামত করতে না পারায় এখনো জোয়ারের পানি এলাকায় প্রবেশ করছে। এটি দ্রুত পুনঃ নির্মাণ করা না গেলে জোয়ারের পানিতে আরও বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয়রা। দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় জনপ্রতিনিরাও।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী বলেন, পূর্ণিমা ও ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে মহেশখালীর মাতারবাড়ি, ধলঘাটা ও সদর উপজেলার পোকখালী, চৌফদন্ডীর বেড়িবাঁধে ১৪টি পয়েন্টে ভেঙ্গপ গেছে। এর মাঝে ৩টি ভাঙ্গনে আপাতত মাটি দেয়া সম্ভব হয়েছে। বাকি ১১টা বেড়িবাঁধের ভাঙ্গন জোয়ারের পানি কমেগেলে মেরামত কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নেয়া রয়েছে।

এ ছাড়াও জেলার প্রায় বেড়িবাঁধ আংশিক ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে ক্ষতিগ্রস্ত সব বেড়িবাঁধ দ্রুত সংস্কার করা হবে বলে উল্লেখ করেন কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী।

 

এদিকে কুতুবদিয়া ও মহেশখালী ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরির্দশন করে দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছেন মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক।

 

অপরদিকে, সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে দ্বীপের উত্তর, উত্তর-পূর্ব দিকে বেশকিছু এলাকা ভেঙ্গে গেছে। উপড়ে গেছে বেশ কিছু গাছপালা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাস্তাঘাটও। আর প্রবল জোয়ারের ধাক্কায় ভেঙ্গে গেছে দ্বীপের একমাত্র জেটির পল্টুনটি। নানা অংশ ভেঙে পড়েছে। বিধ্বস্ত জেটির বিষয়ে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com