রবিবার, ২০ Jun ২০২১, ০৭:০৬ পূর্বাহ্ন

কাশ্মির অঞ্চলে ইসরাইলের দখল নীতির অনুসরণ করছে ভারত-পাকিস্তান

কাশ্মির অঞ্চলে ইসরাইলের দখল নীতির অনুসরণ করছে ভারত-পাকিস্তান

নিউজ ডেস্ক : পাকিস্তান সংসদের কাশ্মির বিষয়ক কমিটির সভাপতি শেহরিয়ার খান আফ্রিদি অভিযোগ করেছেন, ভারত জম্মু ও কাশ্মিরে ইসরাইলের দখল নীতির প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।

শেহরিয়ার খান আফ্রিদি বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের এক সেমিনারে এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘বিশ্বের উচিৎ অধিকৃত কাশ্মিরে ভারতীয় নৃশংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো।

‘২০১৯ সালের ৫ আগস্টের আগে ভারতের শাসকগোষ্ঠী কাশ্মিরের উচ্চপদস্থ পুলিশ ও বেসামরিক আমলাদের ইসরাইল পাঠিয়েছিল জানতে ও প্রশিক্ষণের জন্য। পরে তাদের কাশ্মিরে ফিরিয়ে আনা হয়, যাতে করে তারা জম্মু ও কাশ্মির অঞ্চলে ইসরাইলি মডেল অনুসারে কাজ করতে পারে,’ বলেন শেহরিয়ার খান আফ্রিদি।

তিনি বলেন, ‘এ দলে ছিলেন ভারতের কুখ্যাত পুলিশ অফিসার ইমতিয়াজ হোসেনও। যিনি ২০০ কাশ্মিরি মুসলিমকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত। ২০১৯ সালের ৫ আগস্টের আগে ইমতিয়াজ হোসেনকে ইসরাইলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বোঝার জন্য সেখানে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ফেরত আসার পর তাকে শ্রীনগর শহরের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, যাতে করে তিনি জম্মু ও কাশ্মিরের বিক্ষোভগুলোকে ভালোভাবে দমন করতে পারেন।’

সে দিনটিতে ভারত কাশ্মিরের বিশেষ অধিকার বাতিল করে।

ইমতিয়াজ আফ্রিদি আরো বলেন, ‘বসতি স্থাপনের মাধ্যমে উপনিবেশ স্থাপনের ইসরাইলি প্রক্রিয়াকে অনুকরণ করার মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মিরে জাতিসঙ্ঘের প্রস্তাবনাগুলোর মারাত্মক অবমাননা করেছে ভারত।

প্রায় ৪০ লাখ নতুন লোককে জম্মু ও কাশ্মির অঞ্চলে স্থায়ী নাগরিকত্ব দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে এমন পাঁচ লাখ লোককে ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে নিয়ে আসা হয়েছে যারা আগে কখনো এ অঞ্চলে ঘুরতেও আসেননি।

কাশ্মিরের স্থানীয় নয় এমন লোকদের পর্যটন অঞ্চলের সুবিধাগুলো দেয়া হচ্ছে আর বনভূমিও লিজ দেয়া হচ্ছে তাদের নামে। আর কাশ্মিরের স্থানীয় লোকদের এসব অর্থনৈতিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। ভারত অর্থনৈতিকভাবে কাশ্মিরিদের শ্বাসরোধ করে ফেলছে আর তাদের যেভাবে অধিকারচ্যুত করা হচ্ছে তা জাতিসঙ্ঘের প্রস্তাবনাগুলোর মারাত্মক লঙ্ঘন।

আজাদ কাশ্মিরের প্রেসিডেন্ট মাসুদ খান, তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা জুরদাকুল, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত আহমদ রাবেই, আজারবাইজানের রাষ্ট্রদূত আলি ফিকরাত অগলু আলিজাদা আর পাকিস্তানের সরকারি কর্মকর্তারাও এ আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

বক্তরা কাশ্মির ও ফিলিস্তিনের ইস্যুকে আধুনিক বিশ্বের মানবতা লঙ্ঘনের সবচেয়ে খারাপ উদাহরণ বলে উল্লেখ করেন। যদিও দু’টি ইস্যুই খুব গুরুতর আর জাতিসঙ্ঘের মতোই বয়সে পুরাতন এক সমস্যা, তবু এ সমস্যাগুলোর সমাধান হয়নি।

সূত্র : ইয়েনি সাফাক

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com