রবিবার, ১৩ Jun ২০২১, ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন

ভাঙ্গায় পরকীয়ার জেরে স্বামীকে হত্যা : স্ত্রী-সন্তানসহ আটক-৪

ভাঙ্গায় পরকীয়ার জেরে স্বামীকে হত্যা : স্ত্রী-সন্তানসহ আটক-৪

নিউজ ডেস্ক : ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চরকান্দা গ্রামে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে মামলার বাদী ওই নিহত ব্যক্তির স্ত্রী ও ছেলেসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পরকীয়ার জেরে ওই গৃহকর্তার স্ত্রীকে ফুসলিয়ে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। আদালতে চালানের পর বৃহস্পতিবার গ্রেফতারকৃতরা হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বলে পুলিশ জানায়।

জানা গেছে, গত বছরের ২৬ অক্টোবর ভাঙ্গার চরকান্দা গ্রামে বিল থেকে সেকেন্দার আলী মোল্ল্যা (৫০) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়।

এরপর নিহতের স্ত্রী হাফিজা বেগম (৪০) নিহতের বড় ভাই খোকন মোল্যা, কবিরউদ্দিন ও খলিল মোল্যাসহ অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ দিন ধরে জমি ও রেল লাইনের অধিগ্রহণকৃত এজমালি সম্পত্তির টাকা নিয়ে বিরোধের কারণে তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে বলে হাফেজা বেগম এজাহারে অভিযোগ করেন।

ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো: আবুল কালাম আজাদ জানান, মামলা দায়েরের পর থেকেই ওই গ্রামের আতিয়ার রহমান ভুলু মোল্যা (৬৫) নামে এক ব্যক্তি তাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। তিনি ভুলু মোল্ল্যার প্ররোচনাকেই মামলার মূল সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করলে রহস্য বেরিয়ে আসে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, নিহত সেকেন্দারের সাথে ভুলু মোল্যার ভালো সম্পর্ক ছিল। এই সুবাদে তার বাড়িতে যাতায়াত ছিল ভুলুর। অন্য দিকে বড় ভাই খোকন মোল্লা ও চাচাতো ভাই জমির মোল্লার সাথে রেলওয়ের অধিগ্রহণের আওতায় পড়া ২৭ ভাগ জমির প্রাপ্ত টাকা ভাগ বন্টন নিয়ে বিরোধ ছিল সেকেন্দারের। অপর দিকে গ্রাম্য দলাদলি ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আতিয়ার রহমান ভুলুর সাথে খোকন মোল্ল্যার বিরোধ ছিল। এই সুযোগকেই কাজে লাগান তিনি। একপর্যায়ে ভুলুর সাথে সেকেন্দারের স্ত্রী হাফেজার পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে উঠে। তখন তিনি সংসারের ঝামেলা ও টাকার অভাবের কথা বলে সেকেন্দারকে হত্যায় স্ত্রী হাফেজাকে প্ররোচিত করেন।

তিনি জানান, ঘটনার আগের দিন সন্ধ্যায় হত্যার পরিকল্পনা মতো ভুলু হাফেজার হাতে চারটি ঘুমের বড়ি দিয়ে সেগুলো খাইয়ে দিতে বলে সেকেন্দারকে। পরের দিন সন্ধ্যায় কথামতো হাফেজা তার স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বাবার বাড়ির পুকুর পাড়ে নিয়ে যায়। তখন তিনি টলছিলেন। সেখানে ভুলু ও তার ছেলে সম্রাট মিলে তাকে মেরে ফেলেন।

এসআই আবুল কালাম আজাদ বলেন, সেকেন্দারকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ নৌকায় তোলার সময় সেকেন্দারের ছেলে হোসাইন তাদের দেখে ফেলে। এ সময় হোসাইনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে সাথে নিয়েই নৌকায় সেকেন্দারের লাশ তুলে বিলের মাঝে ফেলে রাখে।

মামলাটি তদন্তের একপর্যায়ে মঙ্গলবার ভুলু মোল্যা ও তার ছেলে সম্রাটকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাবাদে ঘটনার আসল রহস্য বেরিয়ে আসে বলে পুলিশ জানায়।

এরপর বুধবার সেকেন্দার মোল্যার স্ত্রী হাফিজা বেগম ও ছেলে হোসাইনকে শাহ মুল্লুকদি গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আটকদের ফরিদপুরের সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট ৩ নম্বর আমলী আদালতে প্রেরণ করা হলে তারা বিচারক আসিফ আকরামের সামনে সেকেন্দার আলীকে হত্যার ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবুল কালাম আজাদ জানান।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com