শনিবার, ৩১ Jul ২০২১, ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
দুর্গাপুরে ১৩ ফুটের দুটি গাঁজা গাছসহ কবিরাজ গ্রেপ্তার এনআইডি না থাকলেও বিশেষ প্রক্রিয়ায় করা যাবে  টিকার নিবন্ধন দেশে টিকা নিলো ১ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার ৮৩৪ জন মানুষ রাজশাহী-চাঁপাইয়ে আবারও বেড়েছে সংক্রমণ হাতীবান্ধায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে মারধর ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগ পাট চাষে কৃষকের মুখে হাসি নওগাঁয় অস্ত্র-গুলিসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার নওগাঁয় চুরির অপবাদে হাত-পা বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় শিশুকে নির্যাতন জামিল ব্রিগেডের কার্যক্রম রাজশাহী শহর পেরিয়ে এবার গ্রামে চিকিৎসা, শিক্ষা, অবকাঠামো, মান উন্নয়নে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডের জন্য ১২ দফা প্রস্তাব
রাজশাহীতে মুষলধারে বৃষ্টিতে নগরীতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি

রাজশাহীতে মুষলধারে বৃষ্টিতে নগরীতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি

নিজস্ব প্রতিবেদক :
রবিবার বিকালের মুষলধারে বৃষ্টিপাতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় । সারাদিনই মেঘলা আবহাওয়া থাকলেও বেলা দুইটার দিকে এক পশলা বৃষ্টি হয়েই থেমে যায়। বিকাল পৌনে ৩টার দিকে নেমে আসে মুষলধারে বৃষ্টি। বৃষ্টি চলে ৪ টা ২০ মিনিট পর্যন্ত। এতে নগরীর বিভিন্ন মোড়, সড়ক ও নিম্নাঞ্চল ডুবে যায়। বড় বড় ড্রেনগুলো পানিতে ভরে যায়। পানি নিষ্কাশন হতে না পেরে নগরীর বিভিন্ন রাস্তায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

 

বৃষ্টিপাতের ফলে হেতমখাঁ ছোট মসজিদ হতে বর্ণালী মোড় পর্যন্ত সড়কটি ছিল প্রায় হ্টাুঁ পানির নিচে। এতে অটোসহ মানুষের বিশেষ করে মুসল্লিদের নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে যাওয়া খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে। প্রতি বছরই সামান্য বৃষ্টি হলেই এই সড়কটি পানিতে ডুবে যায়। এছাড়া উপশহরের অলিগলিতে পানি প্রবেশ করে। সিপাইপাড়া, তেরখাদিয়ার মধ্য ও উত্তরপাড়া, শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামের সামনের সড়কে এক হাঁটু পানি জমে যায়। ১৬নং ওয়ার্ডের শিল্পীপাড়া, ৩নং ওয়ার্ডের ডিঙাডোবা, ১৭ নং ওয়ার্ডের নওদাপাড়া বাজার সংলগ্ন এলাকা, ৩০ ও ২৮নং ওয়ার্ডের নিম্নাঞ্চলগুলোর রাস্তা-ঘাট এবং বাড়ি বাড়ি পানি প্রবেশ করে। অনেক স্থানে হাঁটু পানি জমে যাওয়ায় ঐসব এলাকার মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।

 

তেরখাদিয়ার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, বর্ষা এলে এ এলাকার বাড়ি বাড়ি পানি প্রবেশ করে, ১৬নং ওয়ার্ডের শিল্পী পাড়ার ফারুক হোসেন বলেন, বর্ষাকালে এখানে জলাবদ্ধতা সাধারণ ব্যাপার। ১৭ নং ওয়ার্ডের ভাড়ারিপাড়ার আব্দুল মতিন বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে।

 

রাজশাহী আবহাওয়া আফিসের তথ্যমতে, রোববার রাজশাহীতে বৃষ্টি হয়েছে ৩৪ মিলিমিটার। পৌনে ৩টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টা ২০ মিনিট পর্যন্ত বৃষ্টি হয়। গত ২৪ ঘন্টার মধ্যে এটিই ছিল সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। পর্যবেক্ষক বলছেন, এবার আষাঢ়ের প্রথমদিনই বৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশের পরিস্থিতি বলছে, আরও কয়েকদিন বৃষ্টি হতে পারে।

 

এদিকে আষাঢ়ের প্রথম পাঁচদিনে রাজশাহীতে বৃষ্টিপাত হয়েছে ৯৪ মিলিমিটার। আষাঢ় এলেই মেঘলা আকাশ, ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি। আবার কখনওবা মুষলধারে। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তবে দীর্ঘ ১০ থেকে ১২ বছর পরে সময়মতো বৃষ্টিপাত হলো রাজশাহী অঞ্চলে। সঠিক সময়ে বৃষ্টি হওয়াকে আবহাওয়া অফিস ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

 

এবছর রাজশাহীতে আষাঢ়ের প্রথমদিন ১৫ জুন থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত পাঁচদিনে ৯৪ দশমিক ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। যেখানে গত বছর আষাঢ়ের প্রথমে তেমন বৃষ্টিপাত হয়নি। গত মঙ্গলবার ১৫ জুন রাজশাহীতে ৬ দমিশক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া বুধবার ১৬ জুন ২৭ দশমিক ৮ মিলিমিটার, বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২৫ দশমিক ২ মিলিমিটার, শুক্রবার ১৮ জুন দমিশক ২ মিলিমিটার ও শনিবার ১৯ জুন ৩৪ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

 

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, চলতি আষাঢ়ের পাঁচদিনে ৯৪ দশমিক ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। গত বছর আষাঢ়ের এই সময়ে বৃষ্টির তেমন দেখা মেলেনি। তবে এবছর বর্ষার যে ধারা, সেইভাবে বৃষ্টি ঝরছে। তিনি আরও বলেন, এই বৃষ্টি আভাস দিচ্ছে পুরো আবহাওয়া পরিস্থিতির। করোনাভাইরাসের কারণে দেশসহ বিশ্বের বড় বড় কল-কারখানা, যানবাহন, পারমাণবিক চুল্লিসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি বন্ধ ছিলো। এই সুযোগে পৃথিবীর আবহাওয়া কিছুটা হলেও আগের জায়গায় ফিরে যেতে সক্ষম হয়েছে।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com