বুধবার, ০৪ অগাস্ট ২০২১, ০৮:০৭ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বরিশাল হাসপাতালে  টাকা না দেয়ায় মেলেনি অক্সিজেন, ছটফট করে মারা গেলেন রোগী হেলেনা জাহাঙ্গীরের ২ সহযোগী আটক অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা ভ্যাকসিন না নিলে বেতন বন্ধ টিকা বাণিজ্যে অভিযুক্ত ‘হুইপ পোষ্য’কে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত হিলিতে তুলা কারখানায় আগুনে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি গাইবান্ধা গ্রাম পুলিশরা মানহীন সাইকেল গ্রহণে অস্বীকৃতি  অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম জয়ে টাইগারদের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন জগন্নাথপুরে করোনা উপসর্গে চার ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু ২৬০০ ডোজ টিকা বিক্রি করেন হুইপের ভাই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি জয় নিয়ে যা বললেন মাহমুদউল্লাহ
মাহজাবিনের স্বামীর পরিকল্পনায় এ হত্যাকাণ্ড, স্বজনদের দাবি

মাহজাবিনের স্বামীর পরিকল্পনায় এ হত্যাকাণ্ড, স্বজনদের দাবি

নিউজ ডেস্ক : স্বামী শফিকুল ইসলাম অরণ্যের পরিকল্পনাতেই মা বাবা ও ছোট বোনকে মাহজাবিন হত্যা করেছে বলে দাবি করেছেন স্বজনরা। তারা বলেছেন, পরিকল্পিতভাবেই অরণ্য হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তিনি স্ত্রীকে জিম্মি করে হত্যায় সহায়তা করতে বাধ্য করেছেন। নইলে তাদের শিশুসন্তান তৃপ্তিকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। একা তিনজনকে হত্যা করা সম্ভব নয় বলেই অরণ্য মাহজাবিনকে কাজে লাগিয়েছে।

 

এ দিকে চেতনানাশক খাইয়ে মা-বাবা ও বোনকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় মাহজাবিন ইসলাম মুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মামলার অপর আসামি মাহজাবিনের স্বামী অরণ্যকে রোববার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাসপাতাল থেকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তাদের দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ হিসেবে স্ত্রীর স্বীকারোক্তি তথা ক্ষোভের বিষয় ছাড়া আর কোনো কারণ আছে কি না- সেগুলোও যাচাই করা হবে। এর বাইরে প্রতিবেশী ও স্বজনদের করা অভিযোগ নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শফিকুলকে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানিয়ে সোমবার আাদালতে পাঠানো হবে। রোববার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এর আগে গত শনিবার রাত ১২টার পর নিহত মাসুদ রানার বড় ভাই শাখাওয়াত হোসেন কদমতলী থানায় মাহজামিন ও শফিকুলকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, রোববার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে মাহজাবিনকে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কদমতলী থানার পরিদর্শক (অপারেশন) জাকির হোসেন। শুনানি শেষে মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ ছাড়াও মাহজাবিন ও তার স্বামী শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩১ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর মাহজাবিন নিজেই ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশকে জানিয়েছিল। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ক্ষোভ থেকে পরিকল্পিতভাবে বাবা-মা আর বোনকে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেছে। ক্ষোভ ছাড়া আরো কোনো কারণ আছে কি-না সেগুলো রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ ছাড়া নিহতদের স্বজন ও প্রতিবেশীরা আরো অভিযোগ করেছেন- সেগুলোও খতিয়ে দেখা হবে।

 

মাহজাবিনের খালা মোছা: ইয়াসমিন সাংবাদিকদের বলেন, শফিকুল ও মাহজাবিনের বিয়ের কিছু দিন পরই মাহজাবিনের আগের সম্পর্ক নিয়ে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়। বিয়ের ছয় মাসের মাথায় আমিনকে হত্যা করেন শফিকুল। এর আগে তিনি শাশুড়ি মৌসুমী ও খালাশাশুড়ি শিউলিকে দিয়ে আমিনকে ডেকে নেন। এ কারণে হত্যা মামলায় ওই দু’জন ও মাহজাবিনকে আসামি করা হয়। হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে ছয় মাস কারাগারে থাকার পর জামিন পান শফিকুল। পরে মাহজাবিনের ছোট বোনের ওপর নজর পড়ে তার। বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে একপর্যায়ে জামাতার বিরুদ্ধে মামলা করেন মৌসুমী। আবার তার বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন শফিকুল। এ ছাড়া ছোট বোন জান্নাতুলকে প্রায় ১০ মাস নিজের বাসায় আটকে রাখেন মাহজাবিন। একপর্যায়ে মেয়েটি পালিয়ে তার মায়ের কাছে চলে যায়। এ দিকে তাকে বিয়ে করার জন্য শ্বশুর-শাশুড়িকে চাপ দিতে থাকেন শফিকুল। তিনি প্রায়ই হুমকি দিতেন- ‘একটা মার্ডার তো করছি, কিছু হয় নাই। লাগলে আরো দুইটা করব।’

 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবেই শফিকুল এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি স্ত্রীকে জিম্মি করে হত্যায় সহায়তা করতে বাধ্য করেছেন। নইলে তাদের শিশুসন্তান তৃপ্তিকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন। একা তিনজনকে হত্যা করা সম্ভব নয় বলেই তিনি মাহজাবিনকে কাজে লাগিয়েছেন। তাকে বোঝানো হয়েছে, চলমান অশান্তি নিরসনে এটাই কার্যকর পন্থা। আর ঘটনার পর তিনি মাহজাবিনকে বুঝিয়েছেন, ‘তুমি পুলিশে ফোন করে হত্যার দায় স্বীকার করো। কয়েক দিন পর আমি তোমার জামিনের ব্যবস্থা করব বলে দাবি করেন এই স্বজন।

কদমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জামাল উদ্দীন মীর বলেন, মাহজামিন ছাড়াও তার স্বামী শফিকুলকে থানায় আনা হয়েছে। তাকেও হত্যাকাণ্ডের কারণ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। উভয়ের কাছে পাওয়া তথ্য যাচাই করা হবে।

 

এ বিষয়ে পুলিশের ওয়ারী বিভাগের ডিসি শাহ ইফতেখার জানান, হত্যাকাণ্ডের পর শনিবার মাহজাবিনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ক্ষোভ থেকে সবাইকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। রোববার অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সম্ভাব্য সব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

 

ঢাকা মেডিক্যাল সূত্র জানায়, রোববার নিহত তিনজনের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া মাহজামিন ও শফিকুল দম্পতির শিশুসন্তান তৃপ্তি ঢামেকের ২১০ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে। তার অবস্থা আশাঙ্কামুক্ত। গত শনিবার সকালে কদমতলীর মুরাদপুর রজ্জব আলী সরদার রোডের পঞ্চম তলা বাসার দ্বিতীয় তলা থেকে মুনের বাবা-মা ও বোনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

নিহতরা হলেন- মাসুদ রানা (৫০), তার স্ত্রী মৌসুমী ইসলাম (৪০) ও মেয়ে জান্নাতুল (২০)। অচেতন অবস্থায় মুনের স্বামী শফিকুল ইসলাম ও মুনের মেয়ে তৃপ্তিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়।

 

এর আগে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাহজাবিন মুন জানিয়েছিলেন, মা তাদের দুই বোনকে দিয়ে দেহ ব্যবসা করাত এমন অভিযোগ করেছে সে। বিষয়টি বাবাকে জানালেও তিনি নিশ্চুপ ছিলেন। এ কারণে বাবা-মায়ের ওপর ক্ষোভ থেকে পরিকল্পিতভাবে সবাইকে হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে মাহজাবিন পুলিশকে জানিয়েছেন।

 

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com