শনিবার, ৩১ Jul ২০২১, ০৪:১২ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
দুর্গাপুরে ১৩ ফুটের দুটি গাঁজা গাছসহ কবিরাজ গ্রেপ্তার এনআইডি না থাকলেও বিশেষ প্রক্রিয়ায় করা যাবে  টিকার নিবন্ধন দেশে টিকা নিলো ১ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার ৮৩৪ জন মানুষ রাজশাহী-চাঁপাইয়ে আবারও বেড়েছে সংক্রমণ হাতীবান্ধায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে মারধর ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগ পাট চাষে কৃষকের মুখে হাসি নওগাঁয় অস্ত্র-গুলিসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার নওগাঁয় চুরির অপবাদে হাত-পা বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় শিশুকে নির্যাতন জামিল ব্রিগেডের কার্যক্রম রাজশাহী শহর পেরিয়ে এবার গ্রামে চিকিৎসা, শিক্ষা, অবকাঠামো, মান উন্নয়নে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডের জন্য ১২ দফা প্রস্তাব
উপহারের টিকা নিয়ে করোনার মহামারি মোকাবিলা সম্ভব নয়

উপহারের টিকা নিয়ে করোনার মহামারি মোকাবিলা সম্ভব নয়

নিউজ ডেস্ক :

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের এমপি বলেছেন, করোনা মহামারি মোকাবিলায় ভ্যাকসিন প্রধান অস্ত্র হিসেবে বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ৮০ শতাংশ জনসাধারণকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা গেলে স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব হবে। অনেক দেশ ক্রমান্বয়ে সে পরিস্থিতি অর্জনের পথে সাফল্য দেখাচ্ছে। আমাদের মতো জনবহুল দেশে উপহার আর দানের সংগৃহীত অপর্যাপ্ত টিকা দিয়ে করোনার মতো মহামারি মোকাবিলা সম্ভব নয়।

 

বুধবার দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে ‘সময়ের আয়নায় পল্লীবন্ধু’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

জিএম কাদের বলেন, প্রতিদিন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আশ্বাসের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু কোনো সাফল্য নেই। টিকা কূটনীতিতে বাংলাদেশ পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। বিভিন্ন দেশ থেকে উপহারের ৫ থেকে ১০ লাখ টিকা পেয়ে স্বস্তির ঢেকুর তুলছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। অথচ ১৮ কোটি মানুষের টিকা পাওয়ার বিষয়টি এখনো সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। বিশ্বাসযোগ্য কোনো তথ্য-উপাত্ত নেই সরকারের ঘোষণায়। টিকার বিষয়ে দেশের মানুষের মাঝে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের মানুষ করোনার টিকা পাওয়ার বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট ঘোষণা জানতে চায়।
তিনি বলেন, সারা বিশ্বের উন্নত ও অনুন্নত দেশগুলো ইতিমধ্যেই রোডম্যাপ অনুযায়ী গণটিকা কর্মসূচি শুরু করেছে। ওই সকল দেশের মানুষ জানেন কখন তাদের টিকাদান কর্মসূচি শেষ হবে। কিন্তু আমাদের দেশের কেউই জানে না কখন আমরা গণটিকা শুরু করতে পারব।

 

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, অদূরদর্শীতার কারণে টিকা ক্রয়ে বিকল্প কোনো সোর্স রাখেনি সরকার। অথচ গেলো বছর বারবার সরকারকে টিকা ক্রয়ে বিকল্প সোর্স রাখতে পরামর্শ দিয়েছিলাম আমরা। এছাড়া বাজেটে টিকা ক্রয়ের জন্য স্পষ্ট বরাদ্দ নেই। তবে বাজেট বক্তৃতায় কিছু দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে ভ্যাকসিন সরবরাহ ও ভ্যাকসিন ক্রয়ের অর্থ প্রাপ্তির আশ্বাস উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি এখনো সে পর্যায়ে আছে।

 

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য সেবা উন্নত করতে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে সরকারের কোনো পরিকল্পনা আছে বলে মনে হয় না। তাই আমরা চাই উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে অক্সিজেন সহায়তা এবং আইসিইউ থাকতে হবে। সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকতে হবে জেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে। যেহেতু যথেষ্ট পরিমাণ করোনা ভ্যাকসিন সম্ভব হচ্ছে না, সেক্ষেত্রে করোনা ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সে পরিস্থিতিতে আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। তাই পরিকল্পিতভাবে আমাদের দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। গণহারে মৃত্যু ঠেকাতে অনতিবিলম্বে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে উপরে বর্ণিত পন্থার বাস্তবায়নে মেগা প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে দেশীয় করোনা ভ্যাকসিনের টিকা উদ্ভাবনের যেকোনো উদ্যোগকে সহযোগিতা দিতে হবে।

 

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, আগামী প্রজন্ম এক সময় পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জীবনী নিয়ে গবেষণা করবে। তখন ‘সময়ের আয়নায় পল্লীবন্ধু’ বইটি তরুণ প্রজন্মের কাছে সমাদ্রিত হবে। আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে পল্লীবন্ধুর অবদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

 

এসময় জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান ও ‘সময়ের আয়নায় পল্লীবন্ধু’ গ্রন্থের প্রকাশক আহসান আদেলুর রহমান এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রকাশনা উৎসবে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেছেন, করোনার সংক্রমণ বেড়েছে, হাসপাতালে জায়গা নেই। দেশের স্বাস্থ্য সেবা উন্নয়নে গেলো বছর ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল, তা সঠিকভাবে খরচ করতে পারেনি সরকার। এ বছরও ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে কিন্তু সঠিকভাবে খরচ করতে পারবে তার নিশ্চয়তা নেই।

 

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি বলেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দেশে উন্নয়নের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রচনা করেছিলেন। ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী পল্লীবন্ধু রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ঘোষণা করেছেন। ইসলামের খেদমতে অসামান্য অবদান রেখেছেন পল্লীবন্ধু। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অবদান ইতিহাসে অক্ষয় হয়ে থাকবে।

 

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি বলেন, একটি বইয়ের মধ্যে পল্লীবন্ধুর র্কীতি তুলে ধরা যায় না। “সময়ের আয়নায় পল্লীবন্ধু” বইটিতে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিশাল জীবনের উল্লেখযোগ্য কিছু স্মৃতি তুলে ধরা হয়েছে। পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ একজন সৈনিক হয়েও রাজনীতিতে এসে দেশের মানুষের হৃদয় জয় করেছিলেন।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com