বুধবার, ০৪ অগাস্ট ২০২১, ১১:০০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বরিশাল হাসপাতালে  টাকা না দেয়ায় মেলেনি অক্সিজেন, ছটফট করে মারা গেলেন রোগী হেলেনা জাহাঙ্গীরের ২ সহযোগী আটক অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা ভ্যাকসিন না নিলে বেতন বন্ধ টিকা বাণিজ্যে অভিযুক্ত ‘হুইপ পোষ্য’কে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত হিলিতে তুলা কারখানায় আগুনে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি গাইবান্ধা গ্রাম পুলিশরা মানহীন সাইকেল গ্রহণে অস্বীকৃতি  অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম জয়ে টাইগারদের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন জগন্নাথপুরে করোনা উপসর্গে চার ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু ২৬০০ ডোজ টিকা বিক্রি করেন হুইপের ভাই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি জয় নিয়ে যা বললেন মাহমুদউল্লাহ
রাজশাহীর করোনা ইউনিটে মৃত্যুর নতুন রেকর্ড

রাজশাহীর করোনা ইউনিটে মৃত্যুর নতুন রেকর্ড

নিজস্ব প্রতিনিধি :

দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুর নতুন রেকর্ড হয়েছে। এই সময়ে মারা গেছে ১৮ জন। এর আগে এই হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ২৪ ঘন্টায় সর্বোচ্চ ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

 

হাসপাতালেরর পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) সকাল ৬টা থেকে আগের ২৪ ঘন্টায় বিভিন্ন সময় তাদের মৃত্যু হয়। মৃত ১৮ জনের মধ্যে ৮ জন করোনা পজিটিভ ছিলেন। অন্য ১০ জন মারা গেছে করোনা উপসর্গ নিয়ে। মৃত ১৮ জনের মধ্যে রাজশাহীরই ১৩ জন। অন্য ৫ জনের মধ্যে নওগাঁর ৪ জন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১ জন। আর মৃত ১৮ জনের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ৮ জন নারী। সব মিলে চলতি মাসের ২৪ দিনে হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ২৬৩ জন।

 

সর্বশেষ ২৪ ঘন্টায় করোনা পজিটিভ হয়ে যে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, তারা সবাই রাজশাহী বিভাগের বাসিন্দা। এর মধ্যে রাজশাহী জেলার ৭ জন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ১ জন। আর উপসর্গ নিয়ে যে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, তারাও রাজশাহী বিভাগের। এদের মধ্যে রাজশাহী জেলার ৬ জন ও নওগাঁ জেলার ৪ জন।

 

হাসপাতাল পরিচালক জানান, করোনা ইউনিটে ২৪ ঘন্টায় যে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ৪ জন মারা গেছেন আইসিইউতে। এছাড়া ২২ নম্বর ওয়ার্ডে ৫ জন, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ১ জন, ১ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ জন, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ১ জন এবং ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৩ জন। ৬১ বছরের উর্ধ্বে মারা গেছেন ৬ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের ৫ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের ৩ জন এবং ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৪ জন।

 

 

হাসপাতাল পরিচালক জানান, আইসিইউ এর ২০টি বেড এবং কেবিনের ১৫টি বেড ছাড়াও হাসপাতালের ১০টি ওয়ার্ড এখন করোনা ডেডিগেটেড ওয়ার্ড। সব মিলে করোনা ইউনিটে এখন বেড সংখ্যা ৩৫৭টি। বৃহস্পতিবার সকালে ৩৫৭ বেডের বিপরীতে রোগী ভর্তি ছিলো ৪০৪ জন। বাড়তি রোগীদের ওয়ার্ডগুলোর মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে সেখানেও তাদের অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

হাসপাতাল পরিচালক জানান, অক্সিজেন সেচুরেশন একদম নীচে নেমে গেছে অর্থাৎ যাদের অক্সিজেন দেয়া প্রয়োজন, বর্তমানে হাসপাতালে শুধু সেসব করোনা রোগীকেই ভর্তি করা হচ্ছে। আর করোনা আক্রান্ত যেসব রোগীর অক্সিজেন দেয়ার প্রয়োজন নেই, তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে না। বাড়িতে রেখেই তাদের চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

 

 

হাসপাতাল পরিচালক আরো জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা থেকে আগের ২৪ ঘন্টায় করোনা ইউনিটে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ৫৪ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৩ জন। বর্তমানে হাসপাতালের করোনা ইউনিটে যে ৪০৪ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদের মধ্যে ২৭২ জনই রাজশাহীর। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫৯ জন, নাটোরের ২৬ জন, নওগাঁর ৩২ জন, পাবনার ১০ জন, কুষ্টিয়ার ৩ জন, চুয়াডাঙ্গার ১ জন ও ঢাকার ১ জন।

এদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের দুটি পিসিআর ল্যাবে রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬৫৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৮৮ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রাজশাহীতে সনাক্তের হার ৩৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ। নওগাঁয় সনাক্তের হার ২৭ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে সনাক্তের হার ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

 

 

করোনা সংক্রমণের উর্ধ্বগতির কারণে রাজশাহী মহানগর এলাকায় আগের ঘোষিত ১৪ দিনের সর্বাত্মক লকডাউন বৃহস্পতিবার রাত ১২ টায় শেষ হবার কথা ছিলো। কিন্তু সংক্রমণ না কমায় জেলা প্রশাসন আরও ৭দিন লকডাউন বাড়িয়েছে। ফলে ২১ দিনের লকডাউন শেষ হবে ৩০ জুন রাত ১২টায়। তবে বৃহস্পতিবার সর্বাক লকডাউনের ১৪তম দিনে দেখা গেছে সবকিছুতেই ঢিলেঢালা। মহানগর এলাকায় ওষুধ ও কৃষিপণ্যের দোকান এবং জরুরি সেবার দোকান ছাড়া সব ধরণের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কথা থাকলেও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ছাড়া অন্যান্য এলাকায় মানা হচ্ছে না এ নিয়ম। সব ধরণের দোকানই খোলা রয়েছে। কাঁচাবাজার নিন্দিষ্ট সময় পর্যন্ত খোলা থাকলেও সেখানে উপেক্ষিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। জরুরি সেবা, রোগী পরিবহণ ও কাঁচামাল পরিবহণের সাথে জড়িত যানবাহন ছাড়া মহানগর এলাকার সাথে সারাদেশের সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। তবে দেশের নানা এলাকা থেকে নানাভাবে লোকজন মহানগর এলাকায় প্রবেশ করছে। নানা অজুহাতে নগরীতে লোকজনের চলাচল বেড়েছে। রিকশা ও অটোরিকশার চলাচলও রয়েছে স্বাভাবিক।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com