শনিবার, ৩১ Jul ২০২১, ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
দুর্গাপুরে ১৩ ফুটের দুটি গাঁজা গাছসহ কবিরাজ গ্রেপ্তার এনআইডি না থাকলেও বিশেষ প্রক্রিয়ায় করা যাবে  টিকার নিবন্ধন দেশে টিকা নিলো ১ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার ৮৩৪ জন মানুষ রাজশাহী-চাঁপাইয়ে আবারও বেড়েছে সংক্রমণ হাতীবান্ধায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে মারধর ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগ পাট চাষে কৃষকের মুখে হাসি নওগাঁয় অস্ত্র-গুলিসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার নওগাঁয় চুরির অপবাদে হাত-পা বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় শিশুকে নির্যাতন জামিল ব্রিগেডের কার্যক্রম রাজশাহী শহর পেরিয়ে এবার গ্রামে চিকিৎসা, শিক্ষা, অবকাঠামো, মান উন্নয়নে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডের জন্য ১২ দফা প্রস্তাব
করোনা মৃত্যুপুরী রাজশাহী হাসপাতাল

করোনা মৃত্যুপুরী রাজশাহী হাসপাতাল

নিজস্ব প্রতিবেদক :

করোনার মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। রোববার (২৭ জুন) সকাল ৮টা থেকে আগের ২৪ ঘন্টায় সর্বশেষ এখানকার করোনা ইউনিটে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজশাহী ও আশপাশের জেলাগুলোতে করোনা সংক্রমণের হার ওঠানামা করলেও হাসপাতালে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। রোববার পর্যন্ত চলতি মাসের ২৭ দিনে হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মোট ৩০৪ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুহার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

 

বিভাগীয় শহর রাজশাহীর এই হাসপাতালটি সেন্ট্রাল অক্সিজেন সমৃদ্ধ উত্তরাঞ্চলের একমাত্র হাসপাতাল। ফলে শুধু রাজশাহীই নয়, বিভাগের ৮ জেলার পাশাপাশি রংপুর ও খুলনা বিভাগের রোগীরা আসেন এখানে চিকিৎসা নিতে। করোনাকালে যেসব রোগীর অক্সিজের স্যাচুরেশন নীচে নেমে যাচ্ছে অর্থাৎ যাদের অক্সিজেন দিতে হচ্ছে, এমন করোনা ও উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর চাপ প্রতিদিনই বাড়ছে হাসপাতালটিতে। রোগীর চাপ এতোটাই বেড়েছে যে, প্রতিদিন শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যে সব রোগী আসছেন, তাদের অক্সিজেন লেভেল ৯০ এর নিচে নামলেই শুধু এখানে ভর্তি নেয়া হচ্ছে। অর্থাৎ যাদের অক্সিজেন প্রয়োজন হচ্ছে, শুধু তাদের ভর্তি করা হচ্ছে। বাকিদের ব্যবস্থাপনাপত্র দিয়ে বাড়ি থেকেই চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রোববার সকাল পর্যন্ত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন রোগী ছিলেন ৪৩৪ জন। এদের সবাইকে দিতে হচ্ছে অক্সিজেন সাপোর্ট।

 

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা: শামীম ইয়াজদানী জানান, হাসপাতালের আইসিইউ এর ২০টি বেড ও কেবিনের ১৫টি বেড ছাড়াও পর্যায়ক্রমে ১০টি ওয়ার্ডকে করোনা ডেডিগেটেড ওয়ার্ড হিসেবে রূপান্তর করা হয়েছে। এসব ওয়ার্ডকে সেন্ট্রাল অক্সিজেনের আওতায় নিয়ে আসার পর করোনা রোগীদের ভর্তি করা হয়েছে। সবমিলে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে এখন বেড সংখ্যা ৩৫৭টি। সেখানে শনিবার সকালে রোগী ভর্তি ছিলো ৪৩৪ জন। বেডের অতিরিক্ত রোগীদের মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সেখানে সিলিন্ডারের মাধ্যমে তাদের অক্সিজেন সাপোর্ট দেয়া হচ্ছে।

 

পরিচালক জানান, হাসপাতালে করোনা রোগীর চাপ এতোটাই বেড়ে যাচ্ছে যে, ৪৮ শয্যার আরও একটি ওয়ার্ডকে করোনা ইউনিটের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। ওয়ার্ডটিতে সেন্ট্রাল অক্সিজেনের সংযোগ দেয়া হচ্ছে। আজকালের মধ্যে ওয়ার্ডটি চালু করা হলে করোনা ইউনিটে বেড সংখ্যা দাঁড়াবে ৪০২টি।

 

তিনি জানান, অক্সিজেন দেয়ার প্রয়োজন নেই, করোনা আক্রান্ত এমন রোগীদের স্থান সংকুলানের অভাবে ইচ্ছা থাকা সত্তে¦ও আমরা ভর্তি নিতে পারছি না। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালে অন্যান্য রোগীদেরও চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। কিডনী ডায়ালাইসিস করতে হয় এমন রোগী, হার্টের রোগী, প্রসুতি ও দুর্ঘটনার কারণে হাড়ভাঙ্গা রোগী ছাড়া অন্য কোন রোগীকে আমরা আপাতত হাসপাতালে ভর্তি করতে পারছি না।

 

পরিচালক বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেন্টাল ইউনিটটি যা এক সময় সদর হাসপাতাল ছিলো, সেখানে ১০০ শয্যার হাসপাতাল চালু করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আমরা প্রস্তাব দিয়েছি। ১০০ শয্যার সদর হাসপাতালটি চালু করা হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কয়েকটি ওয়ার্ডের রোগীকে আমরা সেখানে স্থানান্তর করবো। তখন আরও কয়েকটি ওয়ার্ডকে আমরা করোনা ডেডিগেটেড ওয়ার্ডে রূপান্তর করতে পারবো।

 

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা: শামীম ইয়াজদানী জানান, হাসপাতালের করোনা ইউনিটের রোগীদের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৮ হাজার লিটার অক্সিজেন লাগছে। এখন রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহ করাটাই আমাদের কাছে একটি চ্যালেঞ্জের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অক্সিজেন সরবরাহ আরও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে আরেকটি অক্সিজেন ‘ভ্যাপোরাইজার’ লাইন লাগানো হয়েছে।

 

তিনি বলেন, অক্সিজেনের জন্য আমাদের বাড়তি প্রস্তুতি রাখা হয়েছে, যাতে রোগী বেশি হলেও ব্যবস্থা করা যায়। আমাদের ১৮৩টি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর রয়েছে। বর্তমানে ৭২৫টি অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুদ রাখা হয়েছে। একটি রোগীর অনেক অক্সিজেন লাগছে। এ জন্য অনেক সিলিন্ডার দরকার হচ্ছে। আরও ২০০ সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

পরিচালক বলেন, করোনা রোগীদের জন্য আমাদের ২০টি আইসিইউ বেড রয়েছে ও ৬৯টি হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা রয়েছে, যা প্রায় আইসিইউর সমতুল্য। ২০টি আইসিইউ বেডের বিপরীতে রোগী ভর্তির আবেদন জমা পড়েছে শতাধিক। ফলে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য এগুলো আরও বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com