বুধবার, ০৪ অগাস্ট ২০২১, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বরিশাল হাসপাতালে  টাকা না দেয়ায় মেলেনি অক্সিজেন, ছটফট করে মারা গেলেন রোগী হেলেনা জাহাঙ্গীরের ২ সহযোগী আটক অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা ভ্যাকসিন না নিলে বেতন বন্ধ টিকা বাণিজ্যে অভিযুক্ত ‘হুইপ পোষ্য’কে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত হিলিতে তুলা কারখানায় আগুনে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি গাইবান্ধা গ্রাম পুলিশরা মানহীন সাইকেল গ্রহণে অস্বীকৃতি  অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম জয়ে টাইগারদের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন জগন্নাথপুরে করোনা উপসর্গে চার ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু ২৬০০ ডোজ টিকা বিক্রি করেন হুইপের ভাই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি জয় নিয়ে যা বললেন মাহমুদউল্লাহ
অন্যের মারামারিতে পিতা-পুত্রের নামে হত্যা মামলা, সাংবাদিক সম্মেলনে নির্দোষ দাবী

অন্যের মারামারিতে পিতা-পুত্রের নামে হত্যা মামলা, সাংবাদিক সম্মেলনে নির্দোষ দাবী

বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি

রংপুরের বদরগঞ্জে দুই পরিবারের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মারা যান মমিনুল হক (৩৫) নামে এক কৃষক। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুস সামাদ বাদী হয়ে চলতি বছরের ১২ মে বদরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। কিন্তু গ্রাম্য মাতব্বরদের চক্রান্তে ওই মামলায় প্রকৃত আসামীদের এড়িয়ে নিরীহ মাদরাসার এক সহকারি সুপার ইয়াছিন আলী ও তার ছেলেকে জড়ানো হয়। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মুল আসামীদের আঁড়াল করায় ভুক্তভোগি ইয়াছিনের পরিবারের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বদরগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে ওই সংবাদ সম্মেলন করেন ইয়াছিন আলীর স্ত্রী মোছা. আমেনা বেগম।

 

সংবাদ সম্মেলন ও একটি সুত্রে জানা যায়, নিহত কৃষক মমিনুল হকের আতœীয় মোবারক হোসেনের দত্তক সন্তান রফিকুল ইসলাম (৪৫) ও মোর্শেদা খাতুন(৩৫)। দত্তক নেওয়ার কিছুদিন পর মোবারক হোসেনের তৃতীয় স্ত্রী কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। তার নাম মৌসুমী আক্তার। মোবারক জীবিত অবস্থায় দত্তক নেওয়া দুই সন্তানকে আলাদা করে জমি লিখে দেন। পৈত্রিক সুত্রে বাকি জমির ভোগদখল করেন মৌসুমী ও তার স্বামী মাহমুদুল হাসান সবুজ। এতে ক্ষুব্ধ ছিল রফিকুল ও মোর্শেদা। তারা মৌসুমীর জমির অংশ দাবি করলে নিজেদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে গ্রাম্য সালিস বৈঠক হয়। এর মধ্যে রফিকুল ইসলাম সালিস উপেক্ষা করে গত ১১ মে মৌসুমীর জমির ধান কেটে নিতে গেলে সবুজ বাধা দেয়। এ নিয়ে দুই পরিবারের বিরোধে ওইদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের পাঠানেরহাট নামক স্থানে রফিকুল ও সবুজ গ্রæপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারিতে মমিনুল হক গুরুতর আহত হন। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়। ঘটনার একদিন পর রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যায় মমিনুল। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুস সামাদ বাদী হয়ে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এতে মানসিংপুর মাদরাসার সহকারি সুপার ইয়াছিন আলী ও তার বিশ^বিদ্যালয় পড়–য়া ছেলে আহসান হাবীবকে ষড়যন্ত্রমুলকভাবে মামলায় জড়ানো হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে ইয়াছিন আলীর স্ত্রী আমেনা বেগম বলেন, আমার স্বামী ইয়াছিন আলী একজন মাদরাসা শিক্ষক। আমরা বদরগঞ্জ পৌরশহরের শাহাপুর এলাকায় বসবাস করি। ঘটনার সময় ইয়াছিন আলী বদরগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তারাবি নামাজে ছিলেন। নামাজ শেষে তিনি আনুমানিক রাত ৯টা ৩০ মিনিট থেকে রাত সাড়ে ১০ টার মধ্যে বাসায় এসে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।

 

 

একই দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে পৌরশহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে পাঠানেরহাটে মারামারি ঘটনা ঘটে। এতে আমার নিরপরাধ স্বামী ইয়াছিন আলী এবং আমার বড় ছেলে মো. আহসান হাবিবকে ষড়যন্ত্র ও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ২ ও ৩ আসামী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। যা ষড়যন্ত্রমুলক। তারা কখনই ঘটনাস্থলে ছিলেন না। এর কোন প্রমাণ দিতে কেউ পারবে না। আমার স্বামী-সন্তানকে মামলায় জড়িয়ে একটি কুচক্রি মহল শত্রæতা করে আমাদের সর্বশান্ত করার ষড়যন্ত্রে নেমেছে। আজ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আমার স্বামী ও সন্তান কোথায় আছে, কী করছে, আমি তার কিছুই জানি না। ওই মারামারির সঙ্গে আমার পরিবারের মধ্যে কোন সম্পৃক্ততা নেই।

 

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ইয়াছিন আলীর ছোট ছেলে আহসান কবীর, মেয়ে রোখসানা আফরোজ ও শ্যালক আব্দুল করিম।

 

 

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com