বুধবার, ০৪ অগাস্ট ২০২১, ০১:১৫ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বরিশাল হাসপাতালে  টাকা না দেয়ায় মেলেনি অক্সিজেন, ছটফট করে মারা গেলেন রোগী হেলেনা জাহাঙ্গীরের ২ সহযোগী আটক অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা ভ্যাকসিন না নিলে বেতন বন্ধ টিকা বাণিজ্যে অভিযুক্ত ‘হুইপ পোষ্য’কে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত হিলিতে তুলা কারখানায় আগুনে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি গাইবান্ধা গ্রাম পুলিশরা মানহীন সাইকেল গ্রহণে অস্বীকৃতি  অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম জয়ে টাইগারদের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন জগন্নাথপুরে করোনা উপসর্গে চার ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু ২৬০০ ডোজ টিকা বিক্রি করেন হুইপের ভাই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি জয় নিয়ে যা বললেন মাহমুদউল্লাহ
চাকরি হারানোর শঙ্কায় এনআইডি প্রকল্পের সহস্রাধিক কর্মী

চাকরি হারানোর শঙ্কায় এনআইডি প্রকল্পের সহস্রাধিক কর্মী

নিউজ ডেস্ক :
নির্বাচন কমিশনের আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যাসিং একসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ) প্রকল্পে কর্মরত সারা দেশের ডাটা অ্যান্ট্রি অপারেটররা নিজ নিজ জেলা-উপজেলা কর্মকর্তার মাধ্যমে তাদের চাকরি স্থায়ী করার তথা রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করেও কোনো সারা পাচ্ছেন না। ফলে চাকরি হারানোর হুমকিসহ ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটছে এদের।

 

প্রকল্পে কর্মরত ১ হাজার ১৩৪ জন ডাটা অ্যান্ট্রি অপারেটর। বর্তমানে তারা প্রকল্প কার্যালয়, ইসির আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা অফিসে কর্মরত আছেন। নির্বাচন কমিশন এ ডাটা অ্যান্ট্রি অপারেটরদের দিয়ে ভোটার তালিকা তৈরির কাজসহ ডাটাবেজে ভোটারদের তথ্য সংরক্ষণের কাজও করছেন।

 

বিশেষ করে ভোটার রেজিস্ট্রেশন, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন, স্থানান্তর ও বিভিন্ন নির্বাচনের ইভিএমে ভোট গ্রহণে সহযোগিতাসহ অফিসের ডকুমেন্ট সংরক্ষণের কাজ করছেন তারা।

 

এ প্রকল্পে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাক্তি ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, আমাদেরকে ২০১৬ সালে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় এক বছরের জন্য। এক বছর পার হওয়ার পর পুনরায় আমাদেরকে নিয়োগ দেয়। এভাবে প্রতি বছর সময়সীমা বাড়ানো হচ্ছে অথচ নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন সময়ে আমাদের চাকরি স্থায়ী করার কথা বললেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। সেই সঙ্গে প্রকল্পর মেয়াদও শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। প্রকল্প কর্মরত অনেকের চাকরির বয়স ইতিমধ্যে চলে গেছে বলে জানিয়েছেন তারা।

 

এ ছাড়া সরকার জাতীয় পরিচয়পত্রের কার্যক্রম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে ইসির এ প্রকল্পে কর্মরত ডাটা অ্যান্ট্রি অপারেটরসহ অন্য কর্মচারীরা চাকরি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন। এরই মধ্যে অনেকেরই চাকরির বয়সসীমা শেষ হয়েছে। ইসির চাকরি স্থায়ী না হলে তারা অন্য কোথাও চাকরি পাওয়ার সুযোগ পাবেন না। তাদের দাবি জাতীয় পরিচয়পত্রের কার্যক্রম যেখানেই স্থানান্তর হোক না কেনো তাদেরকে যেনো অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়।

 

গত বছরের ২৬ নভেম্বর সিলেটের সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসারে পাঠানো এক চিঠিতে দেখা গেছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা সিলেটের জৈন্তাপুর নির্বাচন অফিস পরিদর্শন করেন।

 

পরিদর্শনকালে সার্ভার স্টেশনে কর্মরত ডাটা অ্যান্ট্রি অপারেটরদের মূল কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেন। সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট অফিসার একটি চিঠি ইসির সিনিয়র সচিব, জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালকে পাঠান। একইভাবে সারা দেশের জেলা, উপজেলা নির্বাচন অফিসাররাও নিজ নিজ অফিসে কর্মরত ডাটা অ্যান্ট্রি অপারেটরদের চাকরি স্থায়ী করা তথা রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির আবেদন ইসি সচিবালয়ে পাঠিয়েছেন।

 

এ প্রসঙ্গে এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালক একেএম হুমায়ুন কবীর ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, এ বিষয়ে আমাদের পক্ষে যা করার আমরা এরিমধ্যে করে দিয়েছি। বাকি কাজ সরকারের, মন্ত্রণালয়ের। আমরা একটি পত্র প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছি যেটি এখন নিম্ন মন্ত্রণালয়ে পর্যায়ধীন রয়েছে।

 

 

ইসির কর্মকর্তারা বলেছেন, আধুনিক বায়ো-তথ্য সমৃদ্ধ ডাটাবেজ তৈরির প্রতিটি ধাপে ডাটা অ্যান্ট্রি অপারেটর তথা টেকনিক্যাল টিমের সদস্যদের প্রয়োজন হয়। প্রতি বছর এ জনবল দিয়েই নির্বাচন অফিস হালনাগাদ কার্যক্রম পরিচালনা করে ইসি।

 

জানা গেছে, ২০১৬ সালের মার্চে শুরুর দিকে বিগত দিনে যারা ইসির কাজ করেছেন তাদের মধ্য থেকে লিখিত, ব্যবহারিক ও ভাইবা পরীক্ষার মাধ্যমে ১ হাজার ১৩০ জনকে ডাটা অ্যান্ট্রি অপারেটর পদে আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় ১ বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর প্রতি বছর তাদের চাকরির মেয়াদ এক বছর করে বাড়ানো হয়। এভাবে তারা দীর্ঘদিন থেকে সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে নির্বাচন অফিসে কাজ করে যাচ্ছেন।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com