শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ার দখলে টিটো-মোশারুলের লড়াই, কার পক্ষ নেবে আ’লীগ আটপাড়ায় প্রধান শিক্ষকগণের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত কয়রার বাগালী ইউনিয়ন পরিষদের উন্মুক্ত বাজেট সভা ঠাকুরগাঁওয়ের মাদারগঞ্জ গরু হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ ঠাকুরগাঁওয়ে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার জাকির হোসেনের সাথে মতবিনিময় সভা প্রতারণার নতুন কৌশল ঠাকুরগাওয়ে মসজিদ, মাদ্রাসা সহ পাকাবসতবাড়ী নির্মাণের নামে কোটি কোটি টাকার প্রতারণা আটপাড়ায় খুদে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিলেন ইউএনও এম. সাজ্জাদুল অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক শ্যামল ঠাকুরগাঁওয়ে বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের এক্সরে মেশিনটি প্রায় ১৫ বছর ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে, আর অন্যদিকে চিকিৎসক সংকট ফরিদপুরে গরমে বেড়েছে তাল শাঁসের বিক্রি
৪২ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত শাহ্ মখদুম মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রতারনার ফাঁদে

৪২ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত শাহ্ মখদুম মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রতারনার ফাঁদে

সামিউল ইসলাম,রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহী শাহ্ মখদুম মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব জিল্লার রহমান ও একই কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামান স্বাধীনের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে ৪২ জন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হতে চলেছে।

শনিবার (২৩ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে ভূক্তভোগী ৪২ জন শিক্ষার্থী এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। ভূক্তভোগী শিক্ষার্থীরা ক্ষতিপূরণসহ অন্য কোন কলেজে মাইগ্রেশনের সুযোগ দিয়ে পুনরায় তাদের শিক্ষা জীবন ফিরে পাবার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ওই কলেজের ৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান মুন্না লিখিত বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, রাজশাহী বেসরকারি শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রতারণার কারণে ৪২ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজর শিক্ষার্থীরা ২০২০-২১ সেশন এবং ২০২১-২২ সেশনে এই মেডিকেল কলেজের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে আমরা কলেজে ভর্তি হই।

ওই বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত এবং রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত। কিন্তু ভর্তির দুই বছর পার হলে আমরা বিভিন্ন সূত্রে জানতে পারি শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজটি বিএমডিসির কর্তৃক অনুমোদন নাই।
এছাড়াও আরো জানতে পারি,প্রতিষ্ঠানটি রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত নয়। এক কথায় মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের ভুয়া ও চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের জীবন অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে সুরাহার জন্য শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব জিল্লার রহমান এবং প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামান স্বাধীনকে জানালে তারা বলে কলেজের অধিভুক্তি ও অনুমোদন রয়েছে।

আবারো তারা আশ্বাস দিয়ে আমাদের কাছ থেকে প্রতারণা যোগ সাজস করে কয়েক ধাপে উন্নয়ন ফি এর নাম করে ১২ থেকে সর্বোচ্চ ১৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেই।

আমরা যখন তাদেরকে দেখি যে, একজন অবসরপ্রাপ্ত সচিব প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান তখন আমাদের বিশ্বাস আরো দৃঢ় হয় তাদের কথায়। কিন্তু সাবেক সচিব সাহেবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন যে, শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজের দায়িত্ব থেকে তিনি এরইমধ্যে অব্যাহতি নিয়েছেন। এই কথা বলে তিনি দায়মুক্ত হতে চাচ্ছেন। যেটি কখনোই গ্রহণযোগ্য না।
এরপর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামান স্বাধীনের কাছে গেলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে কতৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা করতে পারবে না, চাইলে শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে মামলাও করতে পারে তার কোন আপত্তি নাই। এরপর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহূর্তের মধ্যে বিনা নোটিশে শিক্ষার্থীদেরকে হোস্টেল থেকে বের করে দেন।

তিনি বলেন হোস্টেল ত্যাগ করতে না পারলে তোমাদের জান ও মালের নিরাপত্তা কেউ দিবে না। এ বিষয়ে আমরা চন্দ্রিমা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি যার তদন্ত চলমান। এখন আমাদের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ অনিশ্চিত।

শিক্ষার্থীরা আরো জানান, চিকিৎসা শিক্ষা ব্যবসায়ী প্রতারক মনিরুজ্জামান স্বাধীন ও জিল্লার রহমানের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে আর্থিক, মানসিক এবং সার্বিকভাবে বিপর্যস্ত। আমাদের ৪২ জন শিক্ষার্থী চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পথে।

এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা আদালতে পৃথক পৃথকভাবে ২১ টি মামলা দায়েরসহ রাজশাহী জেলা প্রশাসক, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, মেট্রোপলিটন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর এর মহাপরিচালক, সচিব স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, মন্ত্রী সাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এর কাছে চিঠি প্রদানের মাধ্যমে অবগত করে। তারা শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করলেও এখন পর্যন্ত কোন সুরাহা পায়নি।
শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ সকল শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের নিশ্চয়তা নিরাপত্তা সকল কিছু দিতে ব্যর্থ। বরং তার কাছেই শিক্ষার্থীরা বেশি নিরাপত্তাহীন। শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজের সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষাজীবন রক্ষার্থে অতি দ্রুত নবায়ন যুক্ত মেডিকেলে মাইগ্রেশনের দাবী জানান শিক্ষার্থীরা।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com