বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সরকারের নতুন নির্দেশনা

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সরকারের নতুন নির্দেশনা

অল নিউজ এজেন্সী ডেস্ক: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। পাশাপাশি প্রতি কার্যদিবসে সকাল ৯ টা থেকে ৯ টা৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ অফিস কক্ষে আবশ্যিকভাবে অবস্থান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করেছে।

একইদিনে জারি করা অপর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সারা দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে নিয়োজিত ট্যাগ অফিসারদের কর্মপরিধি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ইতঃপূর্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ হতে সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারীদের সকাল ৯টা থেকে ৯ টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ অফিস কক্ষে আবশ্যিকভাবে অবস্থান এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়সহ দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার লক্ষ্যে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। প্রদত্ত নির্দেশনাসমূহ প্রতিপালন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর ব্যত্যয় পরিলক্ষিত হচ্ছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা পরিপত্রটি অনুসরণের পাশাপাশি দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে এবং জানালা ও দরজা কিংবা ব্লাইন্ড খোলা রেখে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করতে হবে। অফিস চলাকালীন শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় সংখ্যক লাইট, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া নতুন পরিপত্রে।

এতে আরো বলা হয়েছে, এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার উপরে রাখতে হবে ও অফিস কক্ষ ত্যাগ করার সময় কক্ষের বাতি, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ সকল বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ করতে হবে। এছাড়াও অফিসের করিডোর, সিঁড়ি, ওয়াশরুম ইত্যাদি স্থানে অপ্রয়োজনীয় বাতি ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। অফিস সময় শেষ হওয়ার পর সকল বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি (লাইট, ফ্যান, কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার, এয়ার কন্ডিশনার ইত্যাদি) বন্ধ নিশ্চিত করা ও সরকারি নির্দেশনা ব্যতিরেকে আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে।

জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পাশাপাশি অফিস কক্ষ, করিডোর, টয়লেট, সিঁড়ি, সিঁড়ির হাতল ইত্যাদি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এসব নির্দেশনা প্রতিপালন ও তদারকির জন্য সব দপ্তর, সংস্থা ও কার্যালয়কে ভিজিল্যান্স টিম গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগ অফিসারদের কর্মপরিধি: জ্বালানি তেলের বিপণন, পরিবহন ও বিতরন কার্যক্রম তদারিক করতে দেশব্যাপী প্রতিটি ফিলিং স্টেশন একজন করে ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে সরকার। শনিবারের এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে গতকাল রোববার একটি নতুন পরিপত্র জারি করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

এ পরিপত্রে বলা হয়েছে, মাঠপর্যায়ে জ্বালানি তেল গ্রহণ, মজুদ, বিক্রি ও সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে তদারকির জন্য ট্যাগ কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করতে হবে।

ট্যাগ অফিসাররা প্রতিদিন ফিলিং স্টেশনের প্রারম্ভিক জ্বালানি মজুদ রেকর্ডভুক্ত করার পাশাপাশি ডিপো থেকে সরবরাহকৃত জ্বালানি তেল সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশনে উপস্থিত থেকে পরিমাপপূর্বক গ্রহণ করা এবং পে-অর্ডার ও চালান ও রসিদের সঙ্গে পরিমাণ মিলিয়ে দেখবেন। তারা ডিপ-রড বা ডিপ-স্টিকের মাধ্যমে সরবরাহকৃত জ্বালানি তেলের পরিমাণ নিশ্চিত করবেন এবং ডিপো থেকে দৈনিক জ্বালানি গ্রহণের হিসাব ফিলিং স্টেশনের রেজিস্ট্রারে সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ হয়েছে কি না তাও তদারকি করবেন।

এতে আরো বলা হয়েছে, ট্যাগ অফিসাররা ডিসপেন্সিং মেশিনের দৈনিক মিটার রিডিং রেজিস্ট্রার পর্যবেক্ষণ করে বিক্রয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য যাচাই করাসহ প্রতিদিন বিক্রয় শেষে সমাপনী মজুত পর্যালোচনা করবেন। ডিসপেন্সিং মেশিনের পরিমাপ সঠিক রয়েছে কি না তা নিয়মিত পরীক্ষা করবেন সরকারের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত এ কর্মকর্তারা।

এছাড়াও তাদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে- অনুমোদিত লে-আউট প্ল্যান অনুযায়ী পণ্যভিত্তিক মজুদ ক্ষমতা ও বিদ্যমান মজুদ সক্ষমতা যাচাই করা, ফিলিং স্টেশনের আশপাশে কোনো অননুমোদিত ট্যাংক বা স্থাপনা রয়েছে কি না তা পরীক্ষা করা এবং ডিপো থেকে পাম্প এবং পাম্প থেকে ভোক্তা পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থাকে দৃশ্যমান করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

ট্যাগ অফিসাররা ডিপো, ট্যাঙ্কার, পাম্প ও খুচরা বিক্রির তথ্য সমন্বিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রতিটি পাম্পে দিনে অন্তত তিনবার (সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যা) স্টক হালনাগাদ নিশ্চিত করবেন।

ডিপো থেকে জ্বালানি গ্রহণের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিক্রি শুরু নিশ্চিত করা; এক ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি শুরু না হলে তা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং পর্যায়ক্রমে সতর্কতা, ভ্রাম্যমাণ আদালত ও সাময়িক স্থগিতাদেশের ব্যবস্থা গ্রহণ করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে এসব কর্মকর্তাকে। তারা পাম্প খোলা থাকা, স্টক রেজিস্টার, ডিসপ্লে বোর্ড, ক্যাশ মেমো প্রদান, নির্ধারিত সীমা অনুসরণ এবং অবৈধভাবে কন্টেইনারে বিক্রি হচ্ছে কি না- এসব বিষয় জিও-ট্যাগযুক্ত প্রমাণসহ নিয়মিত প্রতিবেদন আকারেও দাখিল করবেন।

ডেস্ক/এমএস

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY