শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২, ০৬:০৪ অপরাহ্ন

পদ্মা সেতু সারা বিশ্বে সম্ভাবনা-গর্বের : সমবায় মন্ত্রী

পদ্মা সেতু সারা বিশ্বে সম্ভাবনা-গর্বের : সমবায় মন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক :
পদ্মা সেতু আজ সারা বিশ্বের কাছে সম্ভাবনা এবং গর্বের একটা বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু বাংলাদেশের বড় অর্জন। এর মাধ্যমে বড় ধরনের অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে পুরো জাতির কাছে।

শনিবার (২৫ জুন) সকালে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে সুধী সমাবেশস্থলে পৌঁছে তিনি এসব কথা বলেন।

তাজুল ইসলাম বলেন, পদ্মা সেতু শুধু দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার সংযোগ নয়, গোটা জাতির অর্থনীতি ও খাদ্যে উন্নতি এবং আগামীর বাংলাদেশকে উন্নত বাংলাদেশে রূপান্তরিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দূরদৃষ্টি সম্পন্ন সিদ্ধান্তের লক্ষ্য পূরণের জন্য বিরাট মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতু সারা বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থানে অভূতপূর্ব পরিবর্তন সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বে সম্ভাবনা এবং গর্বের একটি দেশ।

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ সেলিম বলেন, বঙ্গবন্ধু পদ্মা সেতুর স্বপ্ন দেখতেন স্বাধীনতার পর রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল ও সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে সুন্দর যোগাযোগ ব্যবস্থা হবে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার হাতেই তার পিতার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হচ্ছে। তার হাতেই দেশ নিরাপদ।

সেতুর জমকালো উদ্বোধন উপলক্ষে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাসহ মাওয়া প্রান্তে সকাল থেকেই উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। পদ্মার পাড় সেজেছে নতুন রূপে। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের এ আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে।

এদিকে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা রয়েছে শিবচরের বাংলাবাজার ঘাট এবং আশপাশের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা। সভাস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা।

সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় স্থাপনা পদ্মা সেতু। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার। দ্বিতল এই সেতুর এক অংশ পদ্মা নদীর মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্ত এবং অপর অংশ নদীর শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে যুক্ত। একই সঙ্গে ট্রেন ও গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা রয়েছে এ সেতুতে। চার লেন বিশিষ্ট ৭২ ফুট প্রস্থের এ সেতুর নিচতলায় রয়েছে রেল লাইন। এর মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্থাপিত হবে। পদ্মা সেতু নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।

২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মূল সেতুর পাইলিং ও নদীশাসনের কাজ উদ্বোধন করেন। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হতে শুরু করে পদ্মা সেতুর কাঠামো। এরপর একে একে সব ধাপ পেরিয়ে পদ্মার বুকে ৪২টি পিলারের ওপর দৃশ্যমান হয়ে ওঠে স্বপ্নের সেতু। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সেতু চালু হলে বাংলাদেশের জিডিপি ১.২ থেকে ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com