সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ০৯:১৩ অপরাহ্ন

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন ২০২৩ গেজেট কপি

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন ২০২৩ গেজেট কপি

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে পাসকৃত “বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন,২০২৩ গেজেট কপি
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৪০% লোক হোমিওপ্যাথি ঔষধ ব্যবহার করে আসছে (বিবিসি বাংলা ও আশা ইউনিভার্সিটি এর যৌথ গবেষণা প্রতিবেদন-২০১৫)। এটা বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর বিরাট একটা অংশ। ২৩ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এর মাননীয় মন্ত্রী কর্তৃক বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে উথাপিত হয় বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন ২০২৩।  বা. জা. স. বিল নং ৪৮/২০২৩। Bangladesh Homoeopathic Practitioners Ordinance, 1983 রহিতক্রমে সময়ােপযােগী করিয়া নতুনভাবে প্রণয়নকল্পে আনীত বিল। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে উথাপিত বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন ২০২৩ বিলটি ২৩ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে উত্থাপিত হবার পর বিধি অনুযায়ী বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ এর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে বিলটি প্রেরণ করলে গত ২৫ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা পূর্বক প্রয়োজনীয় সংশোধনী ও সংযোজন করেছে তা জাতীয় সংসদ অধিবেশনে উপস্থাপনের জন্য প্রতিবেদন প্রদান করতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করে, তা বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ০২ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে আলোচনা সহ প্রয়োজনীয় সংশোধনী ও সংযোজন সহ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পাসের জন্য উত্থাপিত হয়ে জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির কার্যালয় বঙ্গভবনে প্রেরন করে, ১৩ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি সম্মতি (স্বাক্ষর) করলে ১৩ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে সরকারি বাংলাদেশ গেজেট (২০ পাতা) প্রকাশিত হয়ে আইন হিসাবে সমগ্র দেশে কার্যকর হয়েছে “বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন ২০২৩ (২০২৩ সনের ৬৩ নং আইন)। বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন ২০২৩ (Bangladesh Homoeopathic Medical Education Act 2023) আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ড (Bangladesh Homoeopathic Board) কে প্রতিস্থাপিত করে বোর্ডের পরিবর্তে বোর্ডের জায়গাসহ অবকাঠামো ও জনবল এবং সকল নথি/পত্র নিয়ে বাংলাদেশে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ও চিকিৎসা শিক্ষার জন্য শুধুমাত্র “বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিল (Bangladesh Homoeopathic Medical Education Council)” হলো। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটান সহ বর্হিবিশ্বের সকল দেশের মত বাংলাদেশেও বাংলাদেশ সরকার স্বীকৃত ডিএইচএমএস ও বিএইচএমএস পাসকৃত হোমিওপ্যাথিক ডিগ্রিধারী হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারগণ বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিল হতে ডাক্তারি পেশার রেজিস্ট্রেশন সনদপত্র নিবে ও আইন অনুযায়ী ডাক্তার “ডা.”পদবি ব্যবহার করতে পারবে।
বর্হিবিশ্বে ভারতসহ অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও স্বাধীনতার ৫ দশক পর বাংলাদেশে হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারদের পেশার নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষার মান উন্নয়ন/উচ্চ শিক্ষার জন্য বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের পরিবর্তে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিল হলো এবং অনেক বিষয় আইনের আওতায় আসলো। বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন ২০২৩ অনুযায়ী সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিল, আইনে কাউন্সিলে ২টি বডি থাকবে (১) নির্বাহী পরিষদ ও (২) গভর্নিং বডি। নির্বাহী পরিষদ কাউন্সিল পরিচালনা কমিটি গভর্নিং বডির নিকট জবাবদিহিতা করবে। এটা আবার সরকারের নিকট জবাবদিহি করবে। আইনে সরকারের অনুমতি নিয়ে হোমিওপ্যাথিক কাউন্সিল হোমিওপ্যাথিক গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। আইনের আওতায় বেশকিছু ধারা-উপধারা সমূহ বিস্তারিত ব্যাখ্যা উল্লেখ করে বিধি/প্রবিধান প্রণয়ন করে তা সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন জারি করবে ও সময়ে সময়ে আইনের সংশ্লিষ্ট বিষয়ের আলোকে সরকারি পরিপত্র/অফিস আদেশ জারি করবে।
বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন ২০২৩ উক্ত আইনে বিশেষ বিশেষ বৈশিষ্ট্য সমূহের মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হলো :
(১) হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষায় সরকার স্বীকৃত ডিগ্রি ডিএইচএমএস ও বিএইচএমএস নিবন্ধন এবং নিবন্ধীত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকগণ (Homoeopathic Doctors) তাদের নামের পূর্বে ডা. পদবী ব্যবহার করতে পারবেন [আইন : ১৯(২), ৭(ক), ২(১৩) ধারা সমূহ]
(২) হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষায় সরকার স্বীকৃত ডিগ্রি ডিএইচএমএস ও বিএইচএমএস চিকিৎসকগন অনুমোদিত বিধি-বিধানের আলোকে স্ব স্ব ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পাবেন [আইন : ৭(খ)(গ)(ছ) ধারা সমূহ]
(৩) হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষার উন্নয়নে জাতীয় ভাবে গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও গবেষণার সুযোগ সুবিধার সৃষ্টি করা যাবে [আইন : ১৪(ঠ), ৭(গ) ধারা সমূহ]
(৪) অবৈধ ও ভূয়া ডিগ্রিধারী, নিবন্ধনহীন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকগণকে আইনের আওতায় শাস্তি প্রয়োগ করা যাবে [আইন : ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৫, ৩৬, ৩৭ ধারা সমূহ]
(৫) হোমিওপ্যাথির উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন ও বিধি-প্রবিধান প্রনয়ন করবে [আইন : ৪৩, ৪৪ ধারা সমূহ]
সরকারি হোমিওপ্যাথিক কর্তৃপক্ষ ২০১৩ সাল হতে ২০২৩ সাল প্রায় ১০ বছরে আইন সংসদে উত্থাপিত করতে তেমন চেষ্টা করেননি। বরং মাঠ পর্যায় হতে জনমত ও হোমিওপ্যাথদের কঠোর চাপে এবং দিকনির্দেশনায় একাদশ সংসদের শেষ অধিবেশনে উত্থাপনে ও পাসে কাজ হয়েছে। তা গভমেন্ট সার্ভিস রুলসে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী তথা জনগণের সেবক হিসেবে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। ভাল কাজের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এর  মহামান্য রাষ্ট্রপতি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ এর মাননীয় স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির মাননীয় সভাপতি, মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী, মাননীয় আইনমন্ত্রী, মাননীয় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি জাতীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় সহ সংশ্লিষ্টদেরকেও ধন্যবাদ জানাই।
দেশ-বিদেশের আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রীয় অতিগুরুত্বপূর্ণ তথা দুর্লভ পরিপত্র/বিধিমালা/প্রজ্ঞাপন/আইন/নথি/ডকুমেন্টস যা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডেও সংগ্রহে বা জানা নেই, সেসকল নথি ও ডকুমেন্টস ব্যক্তিগত ভাবে সংগ্রহ করে বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের হোমিওপ্যাথির সার্বিক উন্নয়নে এসমন্ত রাষ্ট্রীয় দপ্তর গুলোতে সরকারি বাংলাদেশ ডাক বিভাগ এর মাধ্যমে বিভিন্ন সময় সরকারি রেজিস্ট্রি ডাকে ও ই-মেইলে প্রেরন করা হয়েছিল। পরিবারে বংশ পরস্পরায় সরকারি হোমিওপ্যাথিক ডিগ্রিধারী হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। পরিবারে বর্তমানে ৫ জন হোমিওপ্যাথিক ডিগ্রিধারী চিকিৎসক। এ দায়বদ্ধতা ও হোমিওপ্যাথির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা থেকে হোমিওপ্যাথির জন্য কাজ করে যাওয়া হয়েছে। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শিক্ষার সরকারি ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় হতে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেও কখনও হোমিওপ্যাথির জন্য বর্তমান ও ভবিষ্যতেও কোন পদ-পদবী বা ক্ষমতার মোহ গ্রহণ করা নয় বা কোন আগ্রহ কখনও নেই বরং দেশের হোমিওপ্যাথদের জন্য কিছু করা তথা হোমিওপ্যাথির সার্বিক উন্নয়নে নিরবে নিভৃতে কাজ করে যাওয়া হয়েছে। ইতিপূর্বে বাংলাদেশের হোমিওপ্যাথিদের বেশকিছু বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আন্তর্জাতিক হোমিওপ্যাথিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আন্তর্জাতিক হোমিওপ্যাথিক সংগঠন বিদেশি দূতাবাসে সরাসরি উপস্থিত হয়ে দূতাবাসের মাধ্যমে হোমিওপ্যাথি বিষয়ে বাংলাদেশের সরকার প্রধানকে স্মারকলিপি প্রদান করে ও সাক্ষাতেরও আগ্রহ জানায়। Freedom in the power of the pen. অসি অপেক্ষা মসি অধিকতর শক্তিমান। কখনও কোন পদ-পদবী বা ক্ষমতার মোহ গ্রহণ না করে ও পর্দার অন্তরালে থেকেও বা নিরবে নিভৃতে বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে সরকারি হোমিওপ্যাথিক কর্তৃপক্ষের শীর্ষ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রেরন এবং ই-মেইলে ও সরকারি ডাক বিভাগ এর মাধ্যমে রেজিস্ট্রি ডাক যোগে দুর্লভ নথি/ডকুমেন্টস পাঠিয়েও কাজ করা যায় (সরকারি ডাক রেজিস্ট্রি রশিদ ও বিভিন্ন নথি সমূহ সংরক্ষিত)। তা করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে মাঠ পর্যায়ে হোমিওপ্যাথদের প্রয়োজনে ও সরকারি হোমিওপ্যাথিক কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করা হয়েছে। তা চলমান থাকবে। শেষ বেলায়েও হোমিওপ্যাথির জন্য কাজ হলো এটাই ক্ষণস্থায়ী এ জীবনে চরম স্বার্থকতা। ইতিহাস অবশ্যই স্মরণ করবে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে বাংলাদেশের ৫ দশকে বিভিন্নভাবে শোষিত ও বঞ্চিত সম্মানিত ডিএইচএমএস হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারদেরকেও জাতি এবং হোমিওপ্যাথরা স্মরণ করবে। বাংলাদেশের হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারদের ও চিকিৎসা শিক্ষার সার্বিক উন্নয়ন এবং যথাযথ মর্যাদার সহিত অধিষ্ঠিত হোক। জয় হোক বাংলাদেশের হোমিওপ্যাথির। জয় বাংলা।
(মতামত)
====================================
লেখক পরিচিতি :
ডা. মো. আব্দুস সালাম (শিপলু)
ডিএইচএমএস (রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ)
(চিকিৎসক, শিক্ষক, কলামিস্ট, কেন্দ্রীয় চিকিৎসক নেতা ও শিক্ষক নেতা, প্রাক্তন সাংবাদিক)
বাংলাদেশ।
১৫ নভেম্বর ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ।
====================================
অনুলিপি :
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে পাসকৃত “বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৬৩ নং আইন)” এর বাংলাদেশ গেজেট কপি (১৩ নভেম্বর ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ)।
সরকারি বাংলাদেশ গেজেট এর লিংক (পিডিএফ ২০ পাতা) :

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com