বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী মুসলমানদের বিরুদ্ধে চালানো গণহত্যার মামলার বিচার শুরু করেছে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত আন্তর্জাতিক বিচার আদালত-আইসিজে। এক দশক পর সোমবার ঐতিহাসিক ওই মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানি শুরু হলো। গণহত্যায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী অভিযুক্ত। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।
এতে বলা হয়, নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আইসিজেতে শুরু হওয়া বিচার টানা তিন সপ্তাহব্যাপী চলবে। শুনানিতে গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী দাউদা জালো বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করার লক্ষ্যেই অভিযান চালিয়েছে। তিনি আরও বলেন, এটি আন্তর্জাতিক আইনের জটিল তাত্ত্বিক বিষয় নয়। এটি বাস্তব মানুষ, বাস্তব গল্প এবং একটি বাস্তব জনগোষ্ঠী মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের নিয়ে। তাদের ধ্বংসের লক্ষ্যেই আঘাত করা হয়েছে।
২০১৯ সালে গাম্বিয়া আইসিজেতে এই মামলা দায়ের করে। এর দুই বছর আগে, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা নিজ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। শরণার্থীরা সে সময় গণহত্যা, ধর্ষণ ও গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানান।
এক দশকেরও বেশি সময় পর আইসিজেতে পূর্ণাঙ্গভাবে নেয়া এটিই প্রথম কোনো গণহত্যা মামলা। তিন সপ্তাহব্যাপী এই শুনানির রায় শুধু মিয়ানমারের ক্ষেত্রেই নয়, ভবিষ্যতে অন্যান্য গণহত্যা-সংক্রান্ত মামলার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা মামলার ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
এর আগে জাতিসংঘের একটি তদন্ত মিশন ২০১৭ সালের সামরিক অভিযানকে ‘গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দেয়। তবে মিয়ানমার সরকার সেই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে দাবি করে, এটি ছিল রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার জবাবে চালানো বৈধ সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান।
জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থার প্রধান নিকোলাস কৌমজিয়ান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, এই মামলাটি গণহত্যার সংজ্ঞা, তা প্রমাণের উপায় এবং প্রতিকারের প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলে জানা যায়।
ডেস্ক/এমএস