সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ০৮:৫৩ অপরাহ্ন

ভাইসপার নাগছি ১৫ দিন থাকি, আল্লাহ চালাবার নাগছে

ভাইসপার নাগছি ১৫ দিন থাকি, আল্লাহ চালাবার নাগছে

’নিউজ ডেস্ক :
‘বানের পানিত ভাইসপার নাগছি গত ১৫ দিন থাকি। আল্লাহ চালাবার নাগছে। একবেলা খাই একবেলা উপোস করি। ছোট তিনটা ছাওয়া নিয়া বিপদে আছি। ওমরা তো অভাব বোঝে না। খালি খাবার চায়। কিন্তু ঘরত তো খাওন নাই। আইজ সকালে তিন ভাইবোন এক মুট করি পান্তা খায়া আছে। আমরা দুই মানুষ এক মুট চিরা খায়া আছি। এক কেজি চাউল ধার করি আনছি বিকালে আসরের আজান দিলে রাধমো। একমুট ডাইলও আছে। উইয়াকে ৫ জনে একমুট করি খামো বাকিটা ফির রাইতোত খামো। কাইল কি হইবে তাক জানা নাই।’

বাবুর চরের তিন মাসের গর্ভবতী আনিছা বেগম তার দুর্দশার কথা জানান এভাবে।

উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের পেটে অবস্থিত বাবুর চর। এখানকার কৃষি শ্রমিক সাইফুলের স্ত্রী আনিছা। দুই মেয়ে এক ছেলে। সাথী আক্তার (১০), সুমী (৫) এবং রাশেদুল (২)। এরপর আবার তিনি ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। নেই পুষ্টি কিংবা স্বাস্থ্য সেবার সুযোগ।

সাইফুল জানান, বন্যা শুরু হয়েছে থেকে হাতে কোনো কাজ নেই। সঞ্চয় যা ছিল তাও শেষ। এখন সম্পূর্ণ ধার কর্জের ওপর চলছি। তিন বেলা পেট পুরে খাবারই জোটে না পুষ্টিকর খাবার পাবো কোথায়। চেয়ারম্যান মেম্বার কেউ খোঁজ নেয়নি। দেয়নি কোনো রিলিফ। বৃহস্পতিবার কিছু ছাত্র এক কেজি চিড়া এবং এক পোয়া গুড় দিছে।

গত দুই সপ্তাহের খাদ্য তালিকায় কী ছিল- এমন প্রশ্নের উত্তরে জানান, একদিন মাছ খাইছি। আর বাড়ির মুরগির ডিম চার দিন। মাংস কিংবা দুধ জোটে নাই। শুধু ভাত, পাট শাক, ডাল আর লবণ মরিচ।

একই রকম অবস্থা এই বাবুর চরের ৯টি পরিবারের। পরিবারগুলো হলো- শাহের আলী, ছক্কু মিয়া, সাইফুল, কবির উদ্দিন, আতাউর, আলম, তাইজুল, ফারুক এবং বক্করের পরিবারের হালহকিকত। তাদের ভাগ্যে সরকারি কোনো ত্রাণ পৌঁছেনি গত ১৫ দিনেও। অথচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে ত্রাণের কোনো অভাব নেই।

শুক্রবার দুর্গম বাবুর চরে সরেজমিন গেলে কোমর পানি ভেঙে নৌকা ঘিরে ধরে শিশু নারীসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ। তাদের আকুতি ‘হামার গুলার কথা একনা লেখেন বাহে। ছাওয়া-পোয়া গুলাক নিয়া খুব কষ্টে আছি। খাবার নাই। পানির কষ্ট। ছইল-পইল মানুষ না খায়া থাইকপার পায় না। হামরা গুলা না হয় একবেলা খায়া থাকলোং।’

কৃষ্ণা বালা বলেন, নিজেরে খাবার নাই এলা ছাগল আর মুরগি কি খাওয়াই। মহাবিপদ হইছে। তাই ছাগলের জন্য পাটের পাতা ছিঁড়ি আনলোং। উয়াকে হামরাও খামো আর ছাগলও খাইবে।

সম্বরি বেওয়া বলেন, সকাল থেকে কিছু খাই নাই। আধা কেজি চাউল আছে বিকালে রাধমো। সঙ্গে কলাগাছের মাজা সিদ্ধ করে খামো। তাকে দিয়া রাইতোতও চলবে।

নদীর মাঝে চোখে পড়ে এক ব্যক্তি নৌকায় ৫-৬টি ছাগল নিয়ে পাটক্ষেতের ভিতরে ভিতরে যাচ্ছে আর ছাগল মুখ বাড়িয়ে পাটের পাতা খাচ্ছে। মালিক শহিদুল বলেন, নিজেদের খাবার জোটে না, ছাগলগুলাক বাঁচাই কেমনে। কোথাও কোনো ঘাস নেই। তাই নিরুপায় হয়ে পাটক্ষেতে নৌকায় করে আনছি। গবাদি পশুর তীব্র খাদ্য সংকট চলছে।

 

হাতিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, অপ্রতুল ত্রাণ সহায়তার কারণে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। আর দুর্গম চরাঞ্চলের অবস্থা খুবই খারাপ।

উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জের চর মশালের চরের বাসিন্দা মুসা মিয়া জানান, গ্রামের অধিকাংশ লোকের ঘর থেকে পানি নামলেও আঙিনা ও বাড়ির চারপাশে পানি জমে আছে।

এই গ্রামের কৃষক মাইদুল ইসলাম, তৈয়ব আলী ও সিদ্দিক মেম্বার জানান, বন্যার পানিতে পাটক্ষেত ডুবে ছিল। এখন পানি কমে যাওয়ার পর দেখা যাচ্ছে বালু পড়ে পাটক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com