মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২, ১১:০৬ অপরাহ্ন

ন্যায্য অধিকার আদায়ে রাজপথে হোমিওপ্যাথি চিকিৎকরা শ্লোগানে মুখরিত রাজপথ

ন্যায্য অধিকার আদায়ে রাজপথে হোমিওপ্যাথি চিকিৎকরা শ্লোগানে মুখরিত রাজপথ

ডা. মো. আব্দুস সালাম (শিপলু) :
বাংলাদেশের কয়েক দশকের শোষিত ও বঞ্চিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর হাতে গড়া ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্সের ডাক্তারগণ দাবি ও অধিকার নিয়ে সমগ্র বাংলাদেশ ব্যাপী রাজপথে সোচ্চার। সমগ্র বাংলাদেশে হোমিওপ্যাথদের দাবি বিষয়ে সর্বদা মাঠ পর্যায়ের ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কৃতরা সোচ্চার থাকে।
বাংলাদেশের হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারগণ ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দ হতে ডা. উপাধি ব্যবহার করে আসছে তা “বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন (প্রস্তাবিত)” অন্তর্ভুক্ত করা, হোমিওপ্যাথি কাউন্সিল গঠনসহ সুনিদিষ্ট দাবি সমূহ বাস্তবায়ন জানিয়ে বিভিন্ন রেজিষ্টার্ড হোমিওপ্যাথি পেশাজীবী সংগঠন, হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ, হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতি সমূহ নিজ নিজ সময়সূচির অংশ হিসাবে সমগ্র বাংলাদেশে মানববন্ধন করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান করে আসছে।
বাংলাদেশে বেসরকারি আশা ইউনিভার্সিটি ও বিবিসি (বাংলা) যৌথ গবেষণা প্রতিবেদন-২০১৫ অনুযায়ী বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৪০ ভাগ জনগণ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহণ করে আসছে।
বাংলাদেশে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর হাত দিয়ে আইনের মাধ্যমে ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এর হোমিওপ্যাথি বিষয় সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ তথা সরকারি নিয়ন্ত্রণকারী/রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড এর প্রতিষ্ঠা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে সরকার স্বীকৃত ও নিয়ন্ত্রণকৃত ৬৫টি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ডিএইচএমএস কোর্স চালু আছে। ২টি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিএইচএমএস কোর্স চালু আছে।
সমগ্র বাংলাদেশে সরকার স্বীকৃত (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড) ৬৫টি হোমিওপ্যাথিক কলেজের জেলা পর্যায়ের আইনগতভাবে কলেজের সন্মানীত সভাপতি পদের দায়িত্বে আছেন জেলা প্রশাসকগণ ও উপজেলা পর্যায়ে কলেজের সভাপতির পদে দায়িত্বে আছেন সন্মানীত উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণও হোমিওপ্যাথদের দাবি বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেও বার্তা পাঠাচ্ছেন। বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাসহ সরকারি প্রশাসনে বিসিএস ক্যাডার সহ সকল স্তরে উচ্চ পদে কর্মকর্তাগণ সর্বোচ্চ সংখ্যক একমাত্র ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্সের পাসকৃত রয়েছে। বাংলাদেশের হোমিওপ্যাথরা দাবি ও অধিকার নিয়ে রাজপথে, শ্লোগানে-শ্লোগানে রাজপথ কাঁপছে। বাংলাদেশের হোমিওপ্যাথিক কলেজ গুলোর শিক্ষকদের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের সকল সংসদ সদস্যদের মতামত বার্তা জাতীয় সংসদের স্পীকার ও সংসদ নেতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে পাঠান। সে সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে সমগ্র বাংলাদেশ হতে হোমিওপ্যাথদের বিষয়ে গণ সাক্ষরতা নিয়ে জাতীয় সংসদের স্পীকার ও সংসদ নেতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে পাঠান।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংলাপ করেছেন ও মাঠ পর্যায়ে আন্দোলন কর্মসূচিও দিয়েছেন এবং দাবিও আদায় করেছেন। প্রয়োজনে তার আদর্শ হতে শিক্ষা নিন।
বাংলাদেশে কয়েক দশক যাবত শোষিত-বঞ্চিত ডিএইচএমএস হোমিওপ্যাথরা ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে দাবি-অধিকার আদায়ে ডা. মো. আব্দুস সালাম (শিপলু) এর নেতৃত্বে সমগ্র বাংলাদেশ ব্যাপী সামাজিক আন্দোলনের সময় বাংলাদেশের মাঠ পর্যায়ের ডিএইচএমএস হোমিওপ্যাথরা প্রথম নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দেয়।
ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটান সহ বিশ্বব্যাপি হোমিওপ্যাথরা নিজ নিজ দেশের আইন অনুসারে ডা. উপাধি লিখে আসছে। বাংলাদেশে ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দ হতে আইনগতভাবে হোমিওপ্যাথরা ডা. উপাধি ব্যবহার করে আসছে। বাংলাদেশে ডা. উপাধি ছাড়া অন্য কোন উপাধি বাংলাদেশের হোমিওপ্যাথরা গ্রহণ করবেনা ও নিবেনা।
হোমিওপ্যাথদের দাবি বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিনিধি দলের সাক্ষাত ও আলোচনা এবং রাজনৈতিক সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দরকার হবে। মাঠ পর্যায়ে হোমিওপ্যাথরা মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিলেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হোমিওপ্যাথদের সাক্ষাত এবং আলোচনা ব্যতিত অন্যকোন বিকল্প নেই। বঙ্গবন্ধু হোমিওপ্যাথি বিশ্ববিদ্যালয় (প্রস্তাবিত) এর উদ্যোক্তা, রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক পেশাজীবী সংগঠন, প্রয়োজনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এর বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডের প্যাডে সরাসরি বোর্ড চেয়ারম্যান কর্তৃক অফিসিয়ালভাবে স্মারক নম্বরসহ লিখিতভাবে সরাসরি সাক্ষাত চেয়ে, সাক্ষাতের কারণ হিসাবে “বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে হোমিওপ্যাথির সার্বিক উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় আইনে প্রতিবন্ধকতা, প্রস্তাবিত আইনে আন্দোলন-ক্ষোভ দূর করতে প্রস্তাবিত বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইনে হোমিওপ্যাথদের ডাক্তার উপাধি দেশে-বর্হিবিশ্বের মত ব্যবহার চলমান ও বহালে যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করে প্রস্তাবিত আইনটি জাতীয় সংসদে পাস করা সহ সার্বিক বিষয়ে আলোচনা…।”
বাংলাদেশের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের দাবি নিয়ে ডা. শেখ ফারুখ এলাহী [এমবিবিএস, এমসিপিএস (মেডিসিন), এমপিএইচ (ঢা. বি), এমফিল (ঢা. বি), এফআরএসএইচ (ইংল্যান্ড), বিসিএস (স্বাস্থ্য ক্যাডার), ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি), পি-এইচডি (চায়না)] মাঠ পর্যায়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ব্যানারসহ ১৭ জুন ২০২২ সোচ্চার হওয়াতে ও জাতীয় প্রেসক্লাবে সেমিনারে হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল সায়েন্স এর বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে বিজ্ঞান ভিত্তিক জবাব ও বাংলাদেশের হোমিওপ্যাথদের দাবি বিষয়ে জবাব দেবার জন্য বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি৷ ডা. শেখ ফারুখ এলাহী পরিবারের সকলে এমবিবিএস সহ এলোপ্যাথ উচ্চ ডিগ্রি হলেও সকলে ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) পাসকৃত ডাক্তার।
অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশে ডা. শেখ ফারুখ এলাহী (এমবিবিএস), ডা. এম. ছবেদ আলী (এমবিবিএস), ডা. এআরএম জামিল সহ অসংখ্য এমবিবিএস পাসকৃত বিসিএস (স্বাস্থ্য ক্যাডার) প্রাপ্ত সত্য সন্ধানীরা জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল সায়েন্স এর জনক ডা. সামূয়েল হ্যানিম্যান ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতি এবং হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শিক্ষা-গবেষণা কর্মে তথা আদর্শে আলোকীত হয়ে ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) পাস করে সম্পূর্ণভাবে হোমিওপ্যাথি কে পেশা হিসাবে গ্রহণ করেছে। সকলে মাঠ পর্যায়ে সোচ্চার থাকুন। এরকম ডাক্তারদের সম্মিলিত ও ঐক্যবদ্ধতায় এগিয়ে যাক বাংলাদেশের হোমিওপ্যাথি। এরকম ডাক্তারদের দ্বারা আরোগ্যকৃত সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মরত রোগীদের দ্বারা ও পরামর্শে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে হোমিওপ্যাথদের দাবি গুলো বাস্তবায়নের জন্য জড়ালো ভাবে তুলে ধরা হোক। তবেই হোমিওপ্যাথদের জয় সুনিশ্চিত। এগিয়ে যাক বাংলাদেশের হোমিওপ্যাথি।
ছবি ও স্মারকলিপি : জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বর, ঢাকা, বাংলাদেশ। ১৭ জুন ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ।
লেখক পরিচিতি :
ডা. মো. আব্দুস সালাম (শিপলু)
ডিএইচএমএস (রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ) 
এমএসএস (সরকার ও রাজনীতি বিভাগ) এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ।
২৪ জুন ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com