শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ০৭:৫৪ অপরাহ্ন

হোমিওপ্যাথি বোর্ডের অনুমোদন হীন হোমিওপ্যাথি ক্লিনিক, রিসার্চ সেন্টার

হোমিওপ্যাথি বোর্ডের অনুমোদন হীন হোমিওপ্যাথি ক্লিনিক, রিসার্চ সেন্টার

ডা. মো. আব্দুস সালাম (শিপলু) :
বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৪০ ভাগ জনগণ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা গ্রহণ করে আসছে। যা বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় “আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ” ও বিবিসি (বাংলা) এর যৌথ গবেষণা প্রতিবেদন ২০১৫ প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ডিএইচএমএস কোর্সের সরকার স্বীকৃত ৬৫টি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ রয়েছে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিএইচএমএস কোর্সের সরকার স্বীকৃত ২টি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ রয়েছে।
১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এর স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ এর স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর এর অধিনে রাষ্ট্রীয় বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড প্রতিষ্ঠা হয়।
বাংলাদেশে সরকার স্বীকৃত হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ রয়েছে। সরকার স্বীকৃত হোমিওপ্যাথি কোর্স ২টি হলো ডিএইচএমএস ও বিএইচএমএস। সমগ্র বাংলাদেশে জেলা-উপজেলায় বিপুল সংখ্যক রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথ চিকিৎসক ও চেম্বার যেমন আছে, তেমনি বিপুল পরিমান হোমিওপ্যাথিক ঔষধের ফার্মেসী আছে।
“হোমিওপ্যাথিক ক্লিনিক” বা হোমিওপ্যাথিক হাসপাতাল বা দাতব্য ক্লিনিক বা দাতব্য হাসপাতাল শব্দ বা নাম দিতে হলে বিশাল অবকাঠামো, অনেক গুলো রুম, ওয়েটিং রুম, কাউন্টার, ক্লিনিকে অনেক গুলো রোগীর জন্য বেড, অনেক গুলো গভ. রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথ ডাক্তার, অনেক নার্স, ম্যানেজার, আলাদা ফার্মেসী, ফার্মাসিস্ট, পিয়ন, নাইট গার্ড সহ অন্যান্য সুযোগসুবিধা থাকলে তাঁরপর সিভিল সার্জন/স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এর রাষ্ট্রীয় বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড হতে নিদিষ্ট অংকের ব্যাংক ড্রাফট সহ রেজিস্ট্রেশনের আবেদন করলে তা কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে সরজমিন এসে পরিদর্শন ও দরকারি কাগজপত্র এবং জনবল তথা পরিবেশ দেখে সন্তুষ্ঠ হয়ে ক্লিনিক হিসাবে সরকার রেজিস্ট্রেশন অনুমোদন দিলে তবেই শুধুমাত্র ক্লিনিক বা মেডিক্যাল সেন্টার শব্দ বা নাম দেওয়া যেতে পারে। হোমিওপ্যাথিক রিসার্চ বা হোমিওপ্যাথিক রিসার্চ সেন্টার বিষয়টি আরোও কঠিন বিষয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড সহ সরকারি একাধিক মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তর এর অনুমোদন দরকার তেমনি থাকতে হবে বিশাল অবকাঠামো, বিশাল দক্ষ জনবল ও বিপুল আর্থিক ব্যয় নির্বাহের ক্ষমতা। যেখানে স্বাধীনতার ৫০ বছরেও এখনও সরকারিভাবে কোন হোমিওপ্যাথিক রিসার্চ ইন্সটিটিউট স্থাপিত করতে পারেনি সরকার!
তবে কোন ভবন বা বিল্ডিংয়ে কোন তলায় ১/২ রুম ভাড়া নিয়ে সেখানে যদি ১জন হোমিওপ্যাথি বিএইচএমএস বা ডিএইচএমএস ডিগ্রি/নামধারি বসলে ও সরকারি নিয়মকানুন বা বিধিমালা অনুসরণ না করে নিজ ইচ্ছায় নিজে নিজে যদি “হোমিওপ্যাথিক ক্লিনিক” বা “হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল সেন্টার” বা “হোমিওপ্যাথিক হাসপাতাল” বা “হোমিওপ্যাথিক রিসার্চ সেন্টার” শব্দ বা নাম দেয় সেটাকে কি বলা যায়? হোমিওপ্যাথিক “ক্লিনিক” বা হোমিওপ্যাথিক “সেন্টার”/হোমিওপ্যাথিক “মেডিকেল সেন্টার” প্রভৃতি নামে হোমিওপ্যাথিক ড্রাগ লাইসেন্সও হয়না। যদি বিভ্রান্ত করে বা ভুলবশত ড্রাগ লাইসেন্স হয়েও থাকে সরকারি ঔষধ প্রশাসন বা সরকারি কর্তৃপক্ষকে অবগত করার সঙ্গে সঙ্গে সরকারি কর্তৃপক্ষ হোমিওপ্যাথিক ড্রাগ লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল বা নতুন করে আর নবায়ন করবেনা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিসহ প্রকাশিত হয়েছে ৬ তলা বিল্ডিংয়ে সবার নিচ তলায় ছোট একটি দোকান ঘর চেম্বারের জন্য ভাড়া নিয়ে ৬ তলা বিল্ডিংয়ের শীর্ষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও হোমিওপ্যাথি বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন বিহীন ও অনুমোদন ছাড়া লেখা “ডক্টরস হোমিওপ্যাথিক ক্লিনিক” নাম? যে কেউ মনে করবে ৬ তলা হোমিওপ্যাথিক ক্লিনিক!
সমগ্র বাংলাদেশে জেলা ও উপজেলায় অসংখ্য হোমিওপ্যাথি চেম্বারে বা চেম্বার ভবনে বা সাইনবোর্ড বা প্যানাতে বা প্যাডে/ভিজিটিং কার্ডে সরকারি যথাযথ অনুমোদনহীন/রেজিস্ট্রেশন বিহীন হোমিওপ্যাথিক ক্লিনিক, সেন্টার, রিসার্চ প্রভৃতি নাম দিয়ে প্রতিষ্ঠান রয়েছে!
বাংলাদেশে বিভিন্ন এলাকায় সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডের অনুমোদন বিহীন বা রেজিস্ট্রেশন বিহীন তথা সরকারি অনুমোদন ছাড়াই “হোমিওপ্যাথিক ক্লিনিক” বা “সেন্টার” বা “রিসার্চ সেন্টার” বা “রিসার্চ” শব্দ বা নাম ব্যবহার? তা দ্রুত বন্ধ হোক। তা না হলে দ্রুত মোবাইল কোর্ট ও আইন প্রয়োগকারি সংস্থা এবং সরকারের উচ্চপর্যায় হতে অভিযান পরিচালনা, সিলগালা, গ্রেফতার, মিডিয়াতে নিউজ হলে বাংলাদেশে হোমিওপ্যাথির ইমেজ ও সফলতা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? লজ্জাজনক। যা কাম্য নয়। সরকারি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন (প্রম্তাবিত) আইনটি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে পাস ও কার্যকর হলে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কাউন্সিলও গঠিত হবে। সেগুলোর অধিনে থাকবে হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ, মেডিকেল শিক্ষার মান, হোমিওপ্যাথি নিবন্ধিত চিকিৎসকদের জন্য নিজস্ব কম্পিউটার ডাটাবেজ (তথ্যভান্ডার) সহ অন্যান্য ডাটাবেজ, হোমিওপ্যাথদের নিয়ন্ত্রণ, অনিয়ম, ভুয়া ডাক্তার ও ভুয়া প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করতে ঢাকাসহ দেশব্যাপি বা দেশের যে কোন স্থানে অভিযান চালাতে হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কাউন্সিলে নিয়োগকৃত নিজস্ব নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিচারিক ক্ষমতা থাকবে এবং জেল-জরিমানা সহ অন্যান্য ক্ষমতা।
ওয়েবসাইড ভিজিট করুন :
বাংলাদেশ সরকার এর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এর বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড।
(তথ্যসূত্র/নথি ও মতামত)
=====================================
লেখক পরিচিতি :
ডা. মো. আব্দুস সালাম (শিপলু)।
ডিএইচএমএস (রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ)
এমএসএস (সরকার ও রাজনীতি বিভাগ) এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ।
১৮ জুলাই ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ।
ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হতে সংগৃহীত

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com