শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২, ০৫:৪৭ অপরাহ্ন

শিবগঞ্জে স্বামী বেঁচে থাকলেও পেলেন বিধবাভাতার কার্ড

শিবগঞ্জে স্বামী বেঁচে থাকলেও পেলেন বিধবাভাতার কার্ড

মোহা : সফিকুল ইসলাম, শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা :

শিবগঞ্জে সুবিধা ভোগী কার্ড বিতরনে ব্যাপাক অনিয়ম ও দূনীতির অভিযোগ উঠেছে। স্বামী বেঁচে থাকা অবস্থায় টাকার বিনিময়ে দেয়া হয়েছে বিধবা ভাতার কার্ড। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের কান্তিনগর গ্রামে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে আনসার সদস্য শওকাত আলি স্ত্রী ছবিয়ারা বেগমের নামে রয়েছে। বিধবা ভাতার কার্ড।তার বই নং ৮৭৭, ব্যাংকিং হিসাব নং ১৭৪১৭২। তিনি বলেন এক মেম্বারের সাথে আমার ভাল সম্পর্ক থাকায় তার কাছে কার্ডটি করে নিয়েছি। কোন টাকা দেয়নি। তার স্বামী শওকাত আলি জানান, কার্ড হয়েছে তাতে কি হয়েছে ? আরো কত জন কি করছে তার হিসাব নেই। একই গ্রামের ফাহসান আলির স্ত্রী মিলিয়ারা বেগমের নামে হয়েছে বিধবার ভাতার কার্ড। সে তিনবারে ৬হাজার টাকা পেয়েছে। তার স্বামী ফাহসান আলি জানান আমি বেঁচে থাকা অবস্থায় কিভাবে আমার স্ত্রীর নামে বিধবা ভাতার কার্ড হয়েছে তা আমি জানি না। তার বই নং৮৭৮, ব্যাংকিং হিসাব নং ১৭৪৭৪৮। একরাম আলির স্ত্রী চিরল বেগম জানান, আমি আমার মায়ের বিধবা ভাতার কার্ডে নমনি হিসাবে ছিলাম। তার মৃত্যুর পর আমাকে কার্ডটি দিয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে আমার স্বামী বেঁচে আছেন। তিনিও তিনবারে ৬ হাজার টাকা পেয়েছেন। কাউকে কোন টাকা দেয়ার কথা অস্বীকার করলে তার প্রতিবেশী কয়েকজন মহিলা জানান মেম্বারকে ৫ হাজার টাকা দিয়েছেন। একই ভাবে একই গ্রামের কার্ড পেয়েছেন আব্দস সাত্তারের স্ত্রী জোগো বেগম, রোজলুর স্ত্রী পানতারা বেগম, জিয়ারুলের স্ত্রী, তবে আহাদের স্ত্রী এমালী বেগম ও মজিবুর রহমানের স্ত্রী কাচু বেগম জানান আমরা এখনো বই পাইনি।

কার্ডধারীদের সাথে কথা বলার সময় তারা বলেন যে আমরাকে সাবেক মহিলা মেম্বার সাহেলা বেগম ও মেম্বার ওলিউর রহমানের মাধ্যমে কার্ড করে দিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান শুধু ৩নং ওয়ার্ডেই স্বামী বেঁচে থাকার পরও প্রায় ৫০টি বিধবা ভাতার কার্ড করা হয়েছে এবং তারা সবাই ৩/৪বার করে টাকা উত্তোলন করেছে।

ভুক্তভোগী এক বিধাবা জানান ২১ বছর আগে আমার স্বামী মারা গেছে। ১৯বছর কেউ খোঁজ নেয়নি। তিন বছর আগে মেম্বারকে ৫হাজার টাকা দিয়েছিলাম।এক বছর আগে বই পেয়েছি এবং এখন টাকা পাচ্ছি। এব্যাপারে সাবেক মহিলা মেম্বার সাহেলা বেগমের সাথে কথা বললে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে পবিবর্তিত কয়েকটি কার্ড কর দেয়ার কথা স্বীকার করেন।

বর্তমান মোবারকপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মিঞা বলেন, আমি ইতিমধ্যে তিনটি অবৈধ বিধবা ভাতার কার্ড বাতিল করেছি। এখনো তদন্ত করছি।যখন যেটা অবৈধ কার্ডের সন্ধান পাবো, সেটি তখনই বাতিল করবো। শিবগঞ্জ উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা কাঞ্চন কুমার দাস বলেন, সারা উপজেলায় প্রায় ৫৬ হাজার সুবিধা ভোগীর কার্ড রয়েছে। যা তদন্ত করা আমাদের জন্য খুব কষ্টকর। তবে অভিযোগ পেলে তৎক্ষণাৎ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

তিনি আরো বলেন, আমরা বারবার সুবিধাভোগীদের তালিকা চেয়ে ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদেরকে বা চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছি। তাদরে দেয়া তালিকা পেলেই আমরা অনুসন্ধান চালিয়ে অবৈধগুলোকে বাতিল করবো এবং ভবিষ্যতে যে আর কেউ ভূয়া সুবিধাভোগীর কার্ড করতে না পারে সেব্যাপারে সতর্ক থাকবো।

 

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com