মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:১২ পূর্বাহ্ন

কে এ মাসুম ডাক্তারের ভুয়া চিকিৎসায় হয়রানী শিকার রোগীরা, প্রতিকার চেয়ে থানায় অভিযোগ

কে এ মাসুম ডাক্তারের ভুয়া চিকিৎসায় হয়রানী শিকার রোগীরা, প্রতিকার চেয়ে থানায় অভিযোগ

মোহা:সফিকুল ইসলাম, শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা :

শিবগঞ্জে একজ নপল্লীি চকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।প্রতিকার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেএকভুক্তভোগীমহিলার স্বামী।পুলিশজানিয়েছেঅভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।গত ২১ সেপ্টেম্বও রোগীর স্বামী আরসাদ আলির স্বাক্ষরিত অভিযোগ সূত্রে ও সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার দাইপুখুরিয়া ইউনিয়নের নরসিংহপুর গ্রামের মৃত নাজির উদ্দিনের ছেলে আরসাদ আলি গত ১০আগষ্ট২০২২খ্রী: তারিখে তার স্ত্রী সাজিনুর, বেগমের মাথায় টিউমারের চিকিৎসা করার জন্য শ্যামপুর ইউনিয়নের উমরপুর গ্রামে আদর্শ চিকিৎসালয়ের মালিক পল্লী চিকিৎসক মাসুেেমর কাছে যায়।

তিনি চিকিৎসার নামে টিউমার কেটে সেখানে এ্যাসিড দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।তখন থেকে রোগী ভাল না হয়ে আরো বেশী হয়ে গেলে গত ১৫ সেপ্টেম্বও তার কাছে গেলে আমাকে অপমান ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বিদায় করে দেয়।ত্ইা বাধ্য হয়ে আমাকে রাজশাহী গিয়ে চিকিৎসা করাতে হয়েছে।তার ভুল চিকিৎসার জন্যই আমার স্ত্রী সাজিনুর বেগম বিছানায় শুয়ে শুয়ে মুত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। আমি গরীব মানুষ। দিন আনি দিন খাই। এ অবস্থায় মাসুম ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার জন্য রোগীর জন্য আমাকে অরিতিক্ত ৭০ হাজার টাকা খরচ করতে হয়েছে। তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে আরো জানান আমার মত যেন আর কেউ মাসুম ডাক্তারের ফাঁদে পা দিয়ে নি:স্ব না হয়। একই গ্রামের জুলেখা বেগম জানান আমার মেয়ের চিকিৎসার জন্য মাসুম ডাক্তারের কাছে ৪বার গিয়েছি। প্রতিবারই ১ হাজার টাকা করে খরচ হয়েছে। কিন্তু রোগী সুস্থ না হওয়ায় রাজশাহীতে চিকিৎসা করাতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ করেছি। তার কাছে ঘুরেও কোন লাভ হয়নি।

 

সরজমিনে গিয়ে একই উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের চককীতি নামোটোলা গ্রামের মনিরুল ইসলাম জানান পায়ের ঘায়ের চিকিৎসা করাতে গেলে তিনি আমার হাতে ইনজেকশন করেন।এতে হাতে ইনফেকশন হয়ে যায়।পরে রাজশাহী গিয়ে অপারেশন করে সুস্থ হয়েছি।খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। মোবারকপুর ইউনিয়নের দড়িচক গ্রামের মৃত মজনুর রহমানের স্ত্রী রেবিনা বেগম জানান আমার মেয়ে ময়না খাতুনের নাকে পলিপাসের চিকিৎসা করিয়েছি। অপারেশন বাবদ ৩ হাজার ও ঔষধ বাবদ ২ হাজার টাকা নিয়েছে। সুস্থ হয়নি।বরং আরো বেশী হয়েছে। আমি ৩ মেয়ে নিয়ে মানুষের সহযোগিতায় কোন রকমে দিনাতিপাত করছি। এখনো মেয়ের চিকিৎসা করাতে পারিনি। গত বৃহস্পতিবর সকাল ১০টার দিকে জাতীয় পত্রিকাও টেলিভিষনের ৫জন মিডিয়া কর্মী সরজমিনে মাসুম ডাক্তারের আদর্শ চিকিৎসালয়ে গেলে তিনি তার কয়েকজন লোককে ইশারা করে সরে যান। ভিতরে গিয়ে দেখা গেছে নাকের পলিপাসের একজন মহিলার নাক অপারেশন করা হয়েছে।

সে যন্ত্রনায় কাতারাচ্ছে।অপারেশন করা হারবাল চিকিৎসক মোজাম্মেল মিডিয়া কর্মীদের ছবি তুলতে বাধা দিয়ে বলেন আমি অপারেশন করিনি, শুধু ওয়াশ করেছি।এ সময় তিনি মিডিয়া কর্মীদেরকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেনএবং মাসুম ডাক্তারের মা,বোন, স্ত্রীসহ আত্মীয়স্বজনকে সংগে নিয়ে ঝাটা ও লাঠি নিয়ে মিডিয়া কর্মীদের তাড়াও করার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয়রা বাধা দিলে তারা সরে যায়। পরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, মাসুম ডাক্তার দীর্ঘদিন যাবত এভাবে মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে তার শাস্তি হয় না। মামলার অভিযোগের তদন্তকারী অফিসার এস আই আরিফুল ইসলাম জানান, ঘটনার সত্যতা আছে। মাসুম ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার জন্য রোগী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাসুম ডাক্তার কে না পাওযায় পুরো তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। আমাদের উপস্থিতি পেয়ে পালিযে গিয়েছিল।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ঔষধ তত্বাবধায়ক অফিসের সহকারী পরিচালক মোসাম্মদ ফোয়ারা ইয়াসমীন ও শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য ওপ,প অফিসার সায়রা খান জানান,অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে একবার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আবারো আমরা তার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা: এস এম মাহমুদুল হাসান বলেন,আমার জানা মতে তিনি একজন হোমিও ডাক্তার। তিনি এক সংগে মিশ্র চিকিৎসা (হোমিও, এ্যালোপাথিক, কবিরাজী ও হারবাল) করতে পারেন না এবং অপারেশন করতে পারেন না। কিছুদিন আগে ঘটনাস্থলে গিয়ে এধরনের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছিলাম।আবার জানলাম,দ্রুত প্রশাসনিকভাবে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com