শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ার দখলে টিটো-মোশারুলের লড়াই, কার পক্ষ নেবে আ’লীগ আটপাড়ায় প্রধান শিক্ষকগণের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত কয়রার বাগালী ইউনিয়ন পরিষদের উন্মুক্ত বাজেট সভা ঠাকুরগাঁওয়ের মাদারগঞ্জ গরু হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ ঠাকুরগাঁওয়ে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার জাকির হোসেনের সাথে মতবিনিময় সভা প্রতারণার নতুন কৌশল ঠাকুরগাওয়ে মসজিদ, মাদ্রাসা সহ পাকাবসতবাড়ী নির্মাণের নামে কোটি কোটি টাকার প্রতারণা আটপাড়ায় খুদে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিলেন ইউএনও এম. সাজ্জাদুল অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক শ্যামল ঠাকুরগাঁওয়ে বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের এক্সরে মেশিনটি প্রায় ১৫ বছর ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে, আর অন্যদিকে চিকিৎসক সংকট ফরিদপুরে গরমে বেড়েছে তাল শাঁসের বিক্রি
জাহাঙ্গীর সরকারি কলেজের প্রভাষক শ্রেষ্ঠ শ্রেণী শিক্ষক জোনাব আলীর বেতন ৩ মাস ধরে বন্ধ!

জাহাঙ্গীর সরকারি কলেজের প্রভাষক শ্রেষ্ঠ শ্রেণী শিক্ষক জোনাব আলীর বেতন ৩ মাস ধরে বন্ধ!

স্টাফ রিপোর্টার \ ২০২৩ এর শ্রেষ্ঠ শ্রেণী শিক্ষক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখক, গীতিকার, নাট্যকার ও প্রভাষক জোনাব আলী ৩ মাস ধরে বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন বলে জানা গেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সরকারি কলেজ’ এর বাংলা বিষয়ের প্রভাষক মোহাঃ জোনাব আলী অভিযোগ করে বলেন, তিনি বরাবরই কলেজে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করে আসছেন। কলেজটি ২০২১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সরকারিকরণ হওয়ার পর গত ২০২৩ এর মার্চ মাস থেকে সরকারি হিসেবে সকল শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়মিত বেতন ইএফটি এর মাধ্যমে চালু হয়। সরকারি চাকরির বেতন এখন ইএফটি এর মাধ্যমে হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষকরা আইবাসে নিজস্ব পাসওয়ার্ড নম্বরের মাধ্যমে বেতন বিল সাবমিট করে থাকেন। শিক্ষকরা মাসের ২০ তারিখের পর থেকে বেতন বিল সাবমিট করেন। আর সাধারণত সে মাসের ২৫ তারিখ থেকে পরবর্তী মাসের ১ তারিখ বা প্রথম কার্যদিবসে অধ্যক্ষ তার পাসওয়ার্ড দিয়ে বেতন ফরোয়ার্ড করেন। কিন্তু বেতন বিল চালু হওয়ার পর থেকেই অধ্যক্ষ মোঃ এজাবুল হক গত মার্চ ২০২৩ মাস থেকেই বার বার জোনাব আলীরসহ কয়েকজন শিক্ষকের বেতন বিল ফরওয়ার্ড না করে স্বেচ্চাচারিতা করায় কলেজে চলছে নানা গুঞ্জন।
এখন পর্যন্ত প্রভাষক জোনাব আলী ২০২৩ এর অক্টোবর এবং ২০২৪ এর জানুয়ারী ও ফেব্রæয়ারীসহ মোট তিন মাসের বেতন না পাওয়ায় মানবেতর জীবন-যাপন শুরু করেছেন। জোনাব আলী অভিযোগ করে জানান, বেতন সংক্রান্ত বিষয়ে কোন কারণ দর্শানো ছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার করে অধ্যক্ষ মোঃ এজাবুল হক তাকে বেতন না দেয়ায় তিনি পরিবারের নিত্য খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বেতনের আয়ের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় এবং তার ৩ জন ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার জন্য প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা খরচ হয় তার। প্রভাষক জোনাব আলী জানান, তিনি প্রায় কয়েক বছর থেকে শারীরিকভাবে অসুস্থ্য। তার সহধর্মিণীও অসুস্থ। চিকিৎসা বাবদ তার প্রতিদিন বেশ কিছু করে টাকা খরচ হয়ে থাকে।
জোনাব আলী জানান, ২০২৩ সালে অধ্যক্ষ এজাবুল হক তার ফেব্রæয়ারী মাসের বেতন মার্চের ২০ তারিখ, এপ্রিল মাসের বেতন মে মাসের ১৪ তারিখে ফরোয়ার্ড করেন। এরপর জুন মাসের বেতন আবার ফরোয়ার্ড না করায় গত ২৪/০৭/২০২৩ তারিখ তিনি জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করার পর অধ্যক্ষ তার জুন ও জুলাই/২০২৩ মাসের বেতন গত ২৫ জুলাই ২০২৩ তারিখে ফরোয়ার্ড করেন। এরপর আবারও তিনি আগস্ট মাসের বেতন সেপ্টেম্বর/২০২৩ মাসের ৬ তারিখ পর্যন্ত ফরোয়ার্ড করেননি। এসময় তিনি কলেজের অর্থনীতি বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক মনসুরা বেগম এর ৩ মাসের বেতন ফরোয়ার্ড না করায় তিনিও জেলা প্রশাসক এর সাথে দেখা করার পর এ ২ জনের বেতন ফরোয়ার্ড করার জন্য জেলা প্রশাসক মোবাইলে অধ্যক্ষকে বলার পর তিনি তা ফরোয়ার্ড করেন। এভাবে তিনি এ ২ জনসহ ইসলামের ইতিহাসের শিক্ষক সৈয়দা রেহানা আশরাফী, শাহজালাল উদ্দীনসহ আরো কয়েকজনের বেতন সময়মত ফরোয়ার্ড না করে স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছেন। বেতন ফরোয়ার্ড না করাসহ বেশ কিছু বিষয়ে অধ্যক্ষের অসহযোগিতা রয়েছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে সরকারি চাকরী করে সময়মত বেতন না পেয়ে অর্থাভাবে তার বা তার পরিবারের কোন ক্ষতি সাধিত হলে এর কারণ হবে অর্থাভাব এবং এজন্য দায়ী হবেন অধ্যক্ষ বলে দাবি করেছেন প্রভাষক জোনাব আলী। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মহাপরিচালক ও জেলা প্রশাসকের কাছে সহযোগিতা চেয়ে আবেদনও করেছেন।
এ বিষয়ে কয়েকজন ছাত্রছাত্রীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, জোনাব আলী কখনো ক্লাসেও অনুপস্থিত থাকেননা এবং সময়মত প্রতিটি ক্লাস প্রজেক্টরের মাধ্যমে নিয়ে থাকেন। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, শিক্ষক জোনাব আলী ২০২৩ এর জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে সদর উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শ্রেণী শিক্ষক হিসেবে সম্মাননা অর্জন করেন। এছাড়া তিনি ছাত্রজীবনে জেলা গণগ্রন্থাগার পুরস্কার, জেলা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সংস্থা থেকে সাহিত্য পুরস্কার, গুণী পুরস্কার, বঙ্গবন্ধু শতবার্ষিকীতে লেখক হিসেবে গত ২০২০-এ জেলা প্রশাসনের সম্মাননাসহ ছাত্র জীবন থেকেই আরো বেশ কিছু সম্মাননা অর্জন করেছেন। তিনি ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ বেতারের গীতিকার এবং ১৯৯৬ সালে নাট্যকার ও ২০০৫ সালে বিটিভির তালিকাভুক্ত গীতিকার নির্বাচিত হন।
শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি ২০০০ সাল থেকে সাপ্তাহিক সোনামসজিদ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করে আসছিলেন। কলেজের চাকরী সরকারিকরণ হওয়ায় তিনি গত ২০২৩ সালের মার্চ মাসে এ পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেন।

শেয়ার করুন .....




© 2018 allnewsagency.com      তত্ত্বাবধানে - মোহা: মনিকুল মশিহুর সজীব
Design & Developed BY ThemesBazar.Com