বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন
নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা: চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা: কাউসার আলী ও কর্মচারীদের যোগসাজসে হাসপাতালের গো-খাদ্য এবং ওষুধ পাচারের সময় স্থানীয় জনতা তাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখে।
খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ তাদেরকে ওই হাসপাতালে রেখে দুজনকে থানায় নিয়ে যান। মঙ্গলবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। পাচারের ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য রহস্যজনক কারণে অভিযুক্তদের নিকট থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী নাচোল রেলস্টেশন বাজারের নৈশপ্রহরী দোস মোহাম্মদ জানান, ডিউটি করার সময় রাত সাড়ে ১২টার দিকে নাচোলে উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা: কাউসার আলী ও ৫-৬ জন কর্মচারী মিলে একটি স্টিয়ারিং গাড়িতে ফিডের বস্তা ঔষুধ ভর্তি করছিলেন। বিষয়টি তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ওসি ও লেবার সর্দার রিপনকে জানান। রিপন উপস্থিত হলে তারা দ্রুত গাড়ী থেকে মালামাল নামিয়ে ফেলে।
রাতে নাচোল থানার ওসি আছলাম আলী পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে রেখে গোমস্তাপুর উপজেলার বোয়ালীয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে ক্রেতা গাজু আলী ও একই উপজেলার বচনাটোলা গ্রামের আবুল কালামের ছেলে স্টিয়ারিং চালক ফারিকুলকে আটক করেন। ক্ষুব্ধ জনতা বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখে।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী সরদার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া ও নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আছলাম আলী বিক্ষুব্ধ জনতাদের আশ্বাস দেন অপরাধীরা কেউ ছাড় পাবে না, বলে অভিযুক্তদের থানায় নিয়ে যান।
হাসপাতাল থেকে গো-খাদ্য এবং ওষুধ পাচারের সাথে জড়িতরা হলেন- উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা: কাউসার আলী, কর্মচারী আশিক, নারায়ন ও বাবুসহ আরও কয়েকজন। উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তার সহযোগিতায় মূ্ল্যবান সরকারী মালামাল হাসপাতাল থেকে রাতে পাচারের ঘটনাটি তদন্তের নামে মুচলেকা নিয়ে অভিযুক্তদের ছেড়ে দেয় প্রশাসন।
এদিকে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. কবীর উদ্দিন আহমেদ।
ডেস্ক/এমএস